ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্দামানে লঘুচাপের পূর্বাভাস, ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা

আন্দামানে লঘুচাপের পূর্বাভাস, ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা
×

ছবি: ফাইল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৫৯ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৪৭

আশ্বিনের শুরুতেই উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। পরে এটি ধাপে ধাপে ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ এবং শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ভারতের ওড়িশার দিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি। এর প্রভাবে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের পর বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হবে ‘অর্ণব’। নামটি বাংলাদেশ প্রস্তাব করেছে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক আজ শুক্রবার বলেন, আগামীকাল শনিবার অথবা আগামী রোববারের মধ্যে উত্তর আন্দামান সাগরে লঘুচাপটি সৃষ্টি হতে পারে। পরে এটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনুকূল পরিবেশ পেলে এটি ঘূর্ণিঝড়েও রূপ নিতে পারে। তবে এখনই এর গতিপথ বা শক্তি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে এর গতিপথ ওড়িশার দিকে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের শুক্রবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে আগামীকাল শনিবার রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু–এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী পাঁচ দিনে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।

এদিকে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম দেশটির আবহাওয়া বিভাগের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, উত্তর আন্দামান সাগরে থাইল্যান্ড উপকূলের কাছাকাছি একটি ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এটি শক্তি বাড়িয়ে আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরে তা আরও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২১ বা ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঘূর্ণাবর্তটি আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর এটি উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে আগামীকাল শনিবার থেকে আগামী সোমবার পর্যন্ত উপকূলীয় অন্ধ্র প্রদেশে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড় ও পশ্চিমবঙ্গেও এর প্রভাবে বৃষ্টি হতে পারে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্ত এবং সৌরাষ্ট্র থেকে বঙ্গোপসাগর ও সিকিম থেকে উত্তর ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় শনিবার পর্যন্ত বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।

আবহাওয়ার বিভিন্ন মডেলের পূর্বাভাসে এই ঘূর্ণাবর্তের ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হলেও ভারতের আবহাওয়া বিভাগ এখন পর্যন্ত শুধু নিম্নচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। ফলে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি আদৌ সৃষ্টি হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়।

ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হবে ‘অর্ণব’। নামটি বাংলাদেশ প্রস্তাব করেছে। উত্তর ভারত মহাসাগর, আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড়ের জন্য বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কমিটির অনুমোদিত নামের তালিকায় বাংলাদেশের দেওয়া নামগুলোর একটি হলো ‘অর্ণব’। ‘অর্ণব’ শব্দের অর্থ ‘সমুদ্র বা সাগর’। বাংলা অ্যাকাডেমির অভিধানেও অর্ণব শব্দের অর্থ সমুদ্র দেওয়া হয়েছে। 

ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঝড়ের গতিপথ, শক্তি বা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনা করে তৈরি হওয়ার সময় ঠিক করা হয় না। উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য আগে থেকেই বিভিন্ন দেশের প্রস্তাব করা নামের একটি তালিকা নির্ধারিত থাকে। নতুন কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে সেই তালিকা থেকে ক্রমানুসারে একটি নাম দেওয়া হয়। ফলে এবারের সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে বাংলাদেশের প্রস্তাব করা পরবর্তী নাম হিসেবে ‘অর্ণব’ ব্যবহৃত হবে।

এদিকে গত দুই দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশার মতো আবছা পরিস্থিতি দেখা গেছে। এর কারণ জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টির একটি পর্ব শেষ হওয়ার পর সাময়িকভাবে এ ধরনের কুয়াশা দেখা দিতে পারে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে এই কুয়াশা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন

×