ঢাকা রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পোলট্রি ও প্রাণিখাদ্য

নিম্নমানের খাদ্য উৎপাদনে জড়িত ১১৭ প্রতিষ্ঠান শনাক্ত

নিম্নমানের খাদ্য উৎপাদনে জড়িত ১১৭ প্রতিষ্ঠান শনাক্ত
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫৩ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৪৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে পোলট্রি ও প্রাণিখাদ্যের বাজার দ্রুত বড় হচ্ছে। বাড়ছে ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন। এর সঙ্গে বাড়ছে ফিডের চাহিদা। তবে ফিডের মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নিম্নমানের ফিড উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত অবৈধ ১১৭টি প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (এফআইএবি) ও ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (ইউএসএসইসি) আয়োজিত ‘ফিড ফর গ্রোথ: সাপোর্টিং বাংলাদেশ’স প্রোটিন ডিমান্ড’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য জানান প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত ১৫০টি ফিড কোম্পানি বছরে প্রায় ৭৫ লাখ টন বাণিজ্যিক ফিড উৎপাদন করে। এর প্রায় ৭০ শতাংশ পোলট্রি ফিড। মাছ ও গবাদি পশুর খাবারও এই শিল্পের বড় অংশ।

পোলট্রি খাতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করার বিষয়ও এখন সরকারের নীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে। গত জুনে সরকার জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন নীতি-২০২৬ প্রণয়ন করেছে। প্রায় ১৮ বছর পর নতুন এই নীতিতে ডিম ও মাংসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ফিডে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, ক্ষতিকর ফিড উপাদান বাদ দেওয়া, প্রাণিস্বাস্থ্যসেবা ও টিকা সরবরাহ জোরদার এবং অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পোলট্রি খাতকে রপ্তানিমুখী করার লক্ষ্যও রয়েছে।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৯০ হাজার নিবন্ধিত পোলট্রি খামার রয়েছে। অনিবন্ধিত খামার প্রায় ২ লাখ। পোলট্রি খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ যুক্ত বলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন নীতির আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পোলট্রি খাতের উৎপাদন যত বাড়বে, ফিডের চাহিদা তত বাড়বে। এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে গিয়ে মান নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি থাকলে তার প্রভাব শুধু খামারির ওপর নয়, ভোক্তার খাদ্য নিরাপত্তার ওপরেও পড়তে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে নিম্নমানের ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানাল প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। গতকাল সেমিনারে অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে ১১৭টি প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

শাহজামান খান বলেন, কৃষকদের অন্যতম প্রধান দাবি ফিডের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা। ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা ছাড়া এ লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন। একই সঙ্গে নিরাপদ ও ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনের জন্য ফিডের মান নিশ্চিত করা জরুরি। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ফিডের মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপদ ও ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনে কাজ করছে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, পোলট্রি খাতকে রপ্তানিমুখী করতে হবে। এ খাতের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা দেশেই উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে এফআইএবির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুল হক বলেন, বিশ্ববাজারের পরিবর্তন এবং কাঁচামালের দামের ওঠানামার মধ্যে দেশের ফিড শিল্পকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ হতে হবে। আধুনিক ফর্মুলেশন এবং উন্নত কাঁচামালের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে হবে।

সেমিনারে আধুনিক পোলট্রি ও মাছের খাদ্য প্রণয়ন, ব্যয় সাশ্রয়ী উৎপাদনব্যবস্থা এবং টেকসই পুষ্টি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারিগরি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। সেমিনারে সয়াবিনের ব্যবহার, ফিড উৎপাদন প্রযুক্তি ও আধুনিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য দেন ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের (ইউএসএসইসি) বাংলাদেশ মার্কেট লিড খাবিবুর রহমান, ইস্ট এশিয়া অ্যাকুয়াকালচার লিড লুকাস মানোমাইটিস, ঝু এনহুয়া (জো) ও সিয়াং পিন ল্যান শান।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কোয়ালিটি ফিডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহতেশাম বি. শাহজাহান। সমাপনী বক্তব্য দেন এসিআই গোদরেজ এগ্রোভেট প্রাইভেট লিমিটেডের অ্যাসোসিয়েট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

আরও পড়ুন

×