আইসিইউ জোগাড় হলেও অনুশ্রীকে বাঁচানো গেল না
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্ত হলে ওই দিনই অনুশ্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছবি-সংগৃহীত
শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:১৫ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:১৭
‘মেয়েকে বাঁচাতে কতই না চেষ্টা করেছি। কয়েক ঘণ্টা ধরে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটেছি। আইসিইউ জোগাড় করেছি। শেষ চেষ্টা হিসেবে লাইফ সাপোর্টেও নিয়ে গেছি। তারপরও তো মেয়েকে বাঁচাতে পারলাম না। আর কখনও বাবা বলে ডাকবে না আমার অনুশ্রী। আমার অনুশ্রী কেন এভাবে হারিয়ে গেল? ডেঙ্গু আমার সবকিছুই তছনছ করে দিল।’
সাত বছরের মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা সুবল দাশের কান্না আর আহাজারি থামছে না। মেয়ের স্কুলব্যাগ, পোশাক ও খেলনা দেখিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী লিপি দাশ। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ। আত্মীয়-স্বজনসহ অনেকেই তাদের সান্ত্বনা দিতে ছুটে এলেও বাবা-মায়ের আহাজারিতে শেষ পর্যন্ত কাঁদছেন সবাই।
দুই সন্তান-মেয়ের মধ্যে অনুশ্রী ছিল ছোট। শনিবার চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গু আক্রান্ত অনুশ্রীর মৃত্যু হয়। ওই রাতেই সীতাকুণ্ডের শংকর মঠের মহাশ্মশানে তার সৎকার সম্পন্ন হয়।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর জ্বর আসে অনুশ্রীর। এরপর ক্রমেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ১৮ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্ত হলে ওই দিনই তাকে ডায়াবেটিস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এরপর দ্রুত তার প্লাটিলেট কমতে থাকায় আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজন হয়। চট্টগ্রাম নগরের বেশ কয়েকটি হাসপাতালে খোঁজ করেও তাৎক্ষণিকভাবে মেয়ের জন্য আইসিইউ শয্যা পাচ্ছিলেন না সুবল দাশ। কয়েক ঘণ্টা পর বেসরকারি ইমপেরিয়াল হাসপাতালের আইসিইউতে তাকে ভর্তি করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল থেকে অনুশ্রীর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়। পরে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। শনিবার বিকেলে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ছোট্ট অনুশ্রীর।
মেয়েকে বাঁচানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেছেন সুবল ও লিপি দাশ। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের কাছে মেয়ের প্রাণের জন্য নিজ নিজ স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করার আকুল আবেদন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও একাধিক স্ট্যাটাস দেন সুবল দাশ। তবে কোনো চেষ্টাই মৃত্যুর কাছ থেকে শিশুটিকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি।
মেয়ের শেষকৃত্য শেষে শনিবার মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুবল দাশ লেখেন, ‘আমার আদরের অনুশ্রীকে কত সুন্দর করেই না সাজিয়ে দিলাম। আদরের অনুশ্রীকে ঈশ্বরের চরণে শেষ বিদায় দিয়ে আসলাম।’
এদিকে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের শনিবারের প্রতিবেদনে অনুশ্রীর মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১১০ জন।