ঢাকা রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপ্রতিম হত্যা

চার আসামির দুজন যাচ্ছে কিশোর সংশোধনাগারে

চার আসামির দুজন যাচ্ছে কিশোর সংশোধনাগারে
×

গাজীপুর সংশোধনাগার (শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র)

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৪৯ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫৩

কুমিল্লায় স্কুলছাত্র অপ্রিতম হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত তিন আসামি এবং সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার অপর একজনসহ চার আসামিকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে বয়স কম হওয়ায় তাদের মধ্যে মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও কামরুল হাসানকে (১৬) গাজীপুর সংশোধনাগারে (শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে) পাঠানো হবে। 

রোববার রাতে অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমরা চারজনকে কুমিল্লা কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছি। আদালত আজ দুই কিশোর ফাহাদ ও কামরুলকে সংশোধনাগারে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছেন। অপর দুই আসামি তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৯) কুমিল্লা কারাগারে থাকবে। তিনি জানান, দুইজনের মধ্যে সিয়াম এ মামলায় সন্দেহভাজন আসামি। 

রাত ১০টায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান সমকালকে বলেন, পুলিশ একটি হত্যায় মামলায় আজ রাতে চার আসামিকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তাদের মধ্যে দুই কিশোরকে সোমবার গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে। 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ শনিবার দুপুরে কুবির ক্যাম্পাসের পাশের জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

অপ্রতিমের পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বাড়ি থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘শুক্রবার জুমার নামাজের পর অপ্রতিম আমাদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খায়। পরে বন্ধুদের সঙ্গে আইফোন দিয়ে ছবি তুলতে বাইরে যেতে চায়। কিন্তু আর ফিরে আসেনি।’ 

রোববার দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে রোববার রাতে সিয়াম ছাড়া অপর তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান।

সংশ্লিষ্ট খবর

আরও পড়ুন

×