ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি বাকশিস-বিপিসির

শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি বাকশিস-বিপিসির
×
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:০০

শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বৈষম্য দূর করতে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস) ও বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদ (বিপিসি)। একই সঙ্গে জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে আধা সরকারি ব্যবস্থায় রূপান্তরসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। ‘শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা বক্তব্য দেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বড় একটি অংশ বেসরকারি শিক্ষকদের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও তাদের বেতন-ভাতা, পদোন্নতি, চাকরির নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি শিক্ষকদের সঙ্গে বৈষম্য রয়েছে। এ বৈষম্য শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

বাকশিস ও বিপিসি বলেছে, শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভৌত অবকাঠামো ও শিক্ষা উপকরণের উন্নয়ন করলেই শিক্ষার মান বাড়ানো সম্ভব নয়। শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। মেধাবী ও সৃজনশীল ব্যক্তিদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে হলে শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, স্বাধীনতার পর থেকে সরকারি ও বেসরকারি- দুই ধারায় বৈষম্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থা চলছে। শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষাব্যবস্থার সব স্তর জাতীয়করণের মাধ্যমে এক ও অভিন্ন ধারায় রূপান্তরের বিষয়ে সরকারের নীতিগত অঙ্গীকার থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

শিক্ষক নেতারা বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের অনেকের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকলেও তাঁদের পদোন্নতির সুযোগ সীমিত। বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে রাজনৈতিক প্রভাব এবং নিয়োগ ও ভর্তি-সংক্রান্ত নানা অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। এসব কারণে শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত ১০ দাবি
বাকশিস ও বিপিসির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে আধা সরকারি ঘোষণা করা, সরকারি শিক্ষকদের অনুরূপ বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা দেওয়া এবং অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তার জন্য পূর্ণাঙ্গ পেনশন ব্যবস্থা চালু করা।

এ ছাড়া সরকারি কলেজের অনুরূপ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ব্যবস্থা এবং উচ্চতর ডিগ্রির জন্য উচ্চতর বেতন স্কেল দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষকদের সরকারি শিক্ষকদের মতো বদলির সুযোগ, শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য ও অভিজ্ঞ বেসরকারি শিক্ষকদের লিয়েন বা ডেপুটেশনে নিয়োগ এবং দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবিও রয়েছে।

শিক্ষক নেতারা যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক ‘শিক্ষা সার্ভিস কমিশন’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কোনো অবস্থাতেই স্থানীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত একাডেমিক পরিদর্শনের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রথা বিলুপ্ত করে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালনব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি। এ ছাড়া সরকারি কলেজের অনুরূপ জনবল কাঠামো প্রবর্তন, বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করা এবং দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় থাকা যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছাই করে এমপিওভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।

পরিকল্পনাহীনভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা বন্ধ করে জরিপের মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমতি এবং শিক্ষকদের অধিকার, মর্যাদা, দায়িত্ব ও কর্তব্যসংক্রান্ত ইউনেসকো ও আইএলওর ১৯৬৬ সালের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদার পাশাপাশি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের বিষয়েও আত্মবিশ্লেষণ প্রয়োজন। শিক্ষককে গবেষণাধর্মী, সৃজনশীল ও নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে। সুন্দর সমাজ ও দেশ গঠনে মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, অধ্যক্ষ সাহিদুন নাহার, অধ্যক্ষ রেজাউল হক, অধ্যাপক সৈয়দ মুহাম্মদ ইউসুফ সুমন, অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন আজম, অধ্যাপক আনোয়ার মন্ডল, অধ্যাপক হোসনে জাহান, অধ্যাপক আব্দুল হাই সরকার ও অধ্যাপক কানিজ সালমাসহ শিক্ষক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আরও পড়ুন

×