ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঋতু

শরতের সৌন্দর্যে গান কবিতা উৎসব

শরতের সৌন্দর্যে গান কবিতা উৎসব
×
×

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে গতকাল শুক্রবার ছায়ানট ও স্কুলটির যৌথ উদ্যোগে ‘শরতের অনুষ্ঠান’-এ নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা -সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:০৮ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

কাশফুলের শুভ্রতা, নীল আকাশে রঙিন ঘুড়ি, শিউলির সুবাস আর গানের সুরে শরতের সৌন্দর্য ধরা দিল দুই সাংস্কৃতিক আয়োজনে। কোথাও শিশু-কিশোরদের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা ও নৃত্যে ঋতুবন্দনা; কোথাও চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীতের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ। প্রকৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় ঘটানো এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে মানুষে মানুষে দূরত্ব ঘোচানোর বার্তা নিয়ে গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো ছায়ানটের ‘শরতের অনুষ্ঠান’ ও সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর ‘শরৎ উৎসব-১৪৩৩’।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে ছায়ানট ও বিদ্যালয়টির যৌথ আয়োজনে সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয় ‘শরতের অনুষ্ঠান’। কাশফুলে সাজানো মঞ্চ ও প্রবেশপথের রঙিন ঘুড়ি উৎসবের আবহকে করে তোলে আরও বর্ণিল। এতে অংশ নেয় পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শরতে আজ কোন অতিথি’ গানের সঙ্গে সম্মেলক সংগীত ও নৃত্যে শুরু হয় মূল আয়োজন। এরপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও অতুল প্রসাদ সেনের গান, কবিতা ও ছড়ায় ফুটে ওঠে বাংলার শরৎ। নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করে ‘আলোর অমল কমলখানি’ ও ‘শরৎ (আজি কি তোমার মধুর মুরতি)’। সুনির্মল বসুর ‘সবার আমি ছাত্র’ কবিতাটি পরিবেশিত হয় বৃন্দ আবৃত্তিতে। এক্সেল একাডেমি পরিবেশন করে ‘দেখো-দেখো, দেখো, শুকতারা আঁখি’। সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা গেয়ে শোনায় ‘কোন খেপা শ্রাবণ ছুটে এল’।

এ ছাড়া মেহরিন ফাতেমা ও সুদর্শনা অলকানন্দা কুণ্ডু একক সংগীতে পরিবেশন করেন ‘তোমরা যা বলো তাই বলো’ ও ‘ভোরের ঝিলের জলে’। ছায়ানটের শিল্পী পার্থিব সাহা গেয়ে শোনান ‘শিউলি ফুল শিউলি ফুল’; ইজমির মুস্তাফিজ আবৃত্তি করেন ‘শরৎ (এসেছে শরৎ, হিমের পরশ)’। কাজী নজরুল ইসলামের ‘কোন শরতে পূর্ণিমা-চাঁদ’ কবিতাটি পরিবেশিত হয় বৃন্দ আবৃত্তিতে। ছায়ানটের অঙ্কিতা সরকার পরিবেশন করেন ‘অমল ধবল পালে লেগেছে’। সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা এবং ছায়ানটের শিল্পীদের গানের পর সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত নৃত্যগীত ‘আজ ধানের ক্ষেতে’ ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, ষড়ঋতুর বাংলাদেশের প্রতিটি ঋতুর রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। শরতের বৃষ্টিহীন নীল আকাশ, মেঘের ভেলা, কাশবন ও শিউলি ফুলের সৌন্দর্য শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে চায় ছায়ানট। 

অন্যদিকে পুরান ঢাকার সীমান্ত গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণের সাহারা মঞ্চে সকাল সাড়ে ৯টায় সরোদ বাদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর ‘শরৎ উৎসব-১৪৩৩’। যন্ত্রসংগীতশিল্পী শামীম জহিরের পরিবেশনার পর একক ও দলীয় সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও আলোচনায় সাজানো হয় দিনব্যাপী আয়োজন। 

উৎসবে স্বাগত বক্তব্য ও ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট। সভাপতিত্ব করেন সহসভাপতি, লেখক, গবেষক ও নৃত্যশিল্পী অধ্যাপক নিগার চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক মোরশেদ আহমেদ চৌধুরী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউর রহমান দুলু। একক সংগীত পরিবেশন করেন মহাদেব ঘোষ, অণিমা রায়, ফেরদৌসী কাকলি, রত্না সরকার, মাহমুদুল হাসান, সঞ্জয় কবিরাজ, নবনীতা জাহিদ চৌধুরী অনন্যা, শ্রাবণী গুহ রায়, তামান্না নিগার তুলি, এস এম মেজবা ও শান্তা সরকার। আবৃত্তি করেন নাইলা তারান্নুম চৌধুরী কাকলি ও বেলায়েত হোসেন। দলীয় সংগীতে অংশ নেয় সীমান্ত খেলাঘর আসর, গেণ্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচা মেলা, সুরবিহার ও শিল্পবৃত্ত। নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যফ, স্পন্দন, স্বপ্ন বিকাশ কলা কেন্দ্র ও অংশী।

উৎসবে ‘শরৎ কথন’ পর্বে অভিনেতা মামুনুর রশীদ শৈশবের সাংস্কৃতিক আয়োজনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, একসময় এ ধরনের উৎসবে মানুষ একসঙ্গে মিলিত হতো। সেই সম্মিলিত আনন্দ ও সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে মানুষ ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে, যা অনভিপ্রেত। 

আরও পড়ুন

×