নরসিংদীতে হাত-পা বেঁধে ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৩৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
নরসিংদীর রায়পুরায় মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁকে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম তারেক রহমান (২৮)। অভিযুক্ত অলিউর রহমান পলাতক রয়েছেন। ঢাকার কেরানীগঞ্জে চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দেওয়ায় গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে এক বৃদ্ধাকে। সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ভাতিজার দায়ের কোপে চাচি নিহত এবং চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বগুড়ার সোনাতলায় অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় ছয় বছরের সন্তানকে হত্যার মামলায় পুলিশ শিশুটির মাকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদীর রায়পুরায় নিহত তারেক মালয়েশিয়াপ্রবাসী ছিলেন। সেখানে মাদক সেবনের কারণে তাঁকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দেশে ফিরে আবারও মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই বাবা-মাকে মারধর করতেন। বুধবার রাতেও মাদকের টাকার জন্য বাড়িতে ভাঙচুর করেন। সহ্য করতে না পেরে তাঁর বাবা তাঁকে হাত-পা বেঁধে বাড়ির পেছনের একটি গোয়ালঘরে নিয়ে যান। সেখানে মারধরের এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করেন। ঘটনাস্থলেই তারেকের মৃত্যু হয়।
কেরানীগঞ্জে গলা কেটে হত্যা
ঢাকার কেরানীগঞ্জে গলার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দেওয়ায় ফলবরু (৮০) নামে এক নারীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সিরাজুলকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কলাতিয়া নতুনচর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা সিরাজুলের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। ফলবরু ওই এলাকার মৃত লাল মিয়ার স্ত্রী। অভিযুক্ত সিরাজুল একই এলাকার মৃত মতিনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ফুলবরু বেগম সকালে বাড়িতে ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। তাঁর গলায় স্বর্ণের চেইন ছিল। আশপাশে কেউ না থাকার সুযোগে সিরাজুল ওই চেইন ছিনিয়ে নেন। ফলবরু চিনে ফেলায় সিরাজুল তাঁকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে বাড়ি ফিরে নলকূপে রক্তমাখা গেঞ্জি ধোঁয়ার সময় সন্দেহ হলে আশপাশের মানুষ তাঁকে আটক করে। পরে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়।
শ্যামনগরে নারী খুন
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ভাতিজার দায়ের কোপে চাচি নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম সুধা রানী মণ্ডল (৫৮)। গতকাল বৃহস্পতিবার পৌর সদরের বাদঘাটা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় দায়ের এলোপাতাড়ি কোপে কমলা রানী মণ্ডল এবং সমীর মণ্ডল নামে দুজন জখম হয়েছেন। সুধা রানী মণ্ডল মধুসূদন মণ্ডলের স্ত্রী। অভিযুক্ত রমেশ মণ্ডলকে (২৯) আটক করেছে পুলিশ। তিনি সিদাম চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে। আহত কমলা রানী তাঁর মা।
রমেশের স্ত্রী রিংকু রানীর ভাষ্য, তাঁর স্বামী মাদকাসক্ত। মাদকের টাকার জন্য প্রায়ই তিনি পরিবারের সদস্যদের মারধর করেন। তিন মাস আগে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন জেলে ছিলেন। আগের রাত থেকেই দা নিয়ে ঘোরাঘুরি করছিলেন। ভয়ে তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে পৃথক কক্ষে রাত কাটান।
রমেশের চাচাতো ভাই সুব্রত মণ্ডল বলেন, আগে তিনবার মাদকসহ রমেশ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। মাদকের টাকার জন্য সব সময় বাড়িতে থাকা ভাড়াটিয়াসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হতেন। বৃহস্পতিবার সকালে টাকা চেয়ে না পেয়ে নিজের মাকে কোপ দেন। চাচি সুধা রানী ও চাচাতো ভাই সমীর এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা করেন।
আলমডাঙ্গায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ইমদাদুল হক (২৩) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে পৌর এলাকার গোবিন্দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নাইসকে (২০) আটক করেছে পুলিশ। ইমদাদুল হক উপজেলার নওদা বন্ডবিল গ্রামের রেজাউল হকের ছেলে। নাইস গোবিন্দপুর গ্রামের মজনু রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুলশিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করা নিয়ে ইমদাদুলের সঙ্গে নাইসের আগে একাধিকবার কথাকাটাকাটি হয়েছিল। বুধবার রাতে নাইসের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানাতে তাদের বাড়িতে যান ইমদাদুল। এ সময় নাইসের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নাইস কাঠ দিয়ে ইমদাদুলের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় শিশুসন্তান খুন
বগুড়ার সোনাতলায় অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় ছয় বছরের সন্তানকে হত্যার মামলায় পুলিশ শিশুটির মাকে গ্রেপ্তার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত বুধবার দুপুরে একটি ধানক্ষেত থেকে ক্ষতবিক্ষত ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার শিশুটির মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। সোনাতলা থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় তার মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
অটোচালকের মরদেহ উদ্ধার
নেত্রকোনার একটি জঙ্গল থেকে হাত বাঁধা ও মুখে স্কচটেপ প্যাঁচানো অবস্থায় রুকন উদ্দিন (৪০) নামে এক অটোচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার নয়াপাড়ার বুদিয়ার জঙ্গল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রুকন উদ্দিন সদর উপজেলার গিডুরপাড়া গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে।
(ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর)
- বিষয় :
- হত্যা