ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নীতিমালায় নয়, সারের ডিলার নিয়োগ ঘুষ-দলীয়করণে

নীতিমালায় নয়, সারের ডিলার  নিয়োগ ঘুষ-দলীয়করণে
×
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৪৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে ঘুষ, দলীয়করণ এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। সারের ব্যবসার অভিজ্ঞতা না থাকলেও বিভিন্ন জেলায় দুর্নীতি, বিএনপি এমপি-নেতাদের সুপারিশে আত্মীয় এবং দলীয় লোকজনকে ডিলার নিয়োগের উদাহরণ তুলে ধরেছে বিরোধী দল।    

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার। অভিযোগের পক্ষে তিনি বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও রংপুরের পীরগাছায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ১০ লাখ টাকা দিয়েও ডিলারশিপ না পাওয়ার দাবি, ভুয়া গোডাউন ও জাল চুক্তিনামার অভিযোগ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বরিশালে এমপি-নেতার স্বজনদের ডিলারশিপ পাওয়ার খবর।
ডিলার নিয়োগের নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যবসার পূর্ব অভিজ্ঞতা, গোডাউন থাকতে হবে। এক পরিবারের একাধিক ব্যক্তি ডিলার হতে পারবেন না। ডিলারকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের বাসিন্দা হতে হবে। গোলাম পরওয়ার বলেন, নীতিমালা ভেঙে এক ইউনিয়নের বাসিন্দাকে অন্য এলাকার ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। 

কখনও সারের ব্যবসা না করেও অনেকে ডিলারশিপ পেয়েছেন। এক এমপির ছেলে, ভগ্নিপতি এবং ভাগনের স্ত্রী ডিলার হয়েছেন। ভুয়া গুদাম ও ভুয়া চুক্তিনামা দিয়েও ডিলারশিপ নেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে দলীয় চাপের মুখে নিয়োগ এবং আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাদেরও ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। 
নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা সার ও বীজ কমিটি ডিলারশিপের জন্য আবেদনকারীদের মধ্যে তিনজনকে বাছাই করে জেলায় নাম পাঠায়। জেলা কমিটি তা যাচাই করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। জেলা কমিটি রাজনৈতিক বিবেচনায় আবেদনকারী বাছাই করেছে বলে অভিযোগ জামায়াতের। দলটির সেক্রেটারি বলেন, যোগ্য ব্যক্তিদের ডিলার হিসেবে নিয়োগের সুযোগই ছিল না। বিএনপির নেতারা টাকার বিনিময়ে ডিলার নিয়োগ দিয়েছেন। রংপুরসহ কিছু এলাকায় বিএনপির  দলীয় প্যাডে তালিকা দেওয়া হয়েছে। এ তালিকা থেকেই ডিলার নিয়োগ হয়েছে। টাকা নিয়ে দিনাজপুর, 
রংপুরের বদরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিলার নিয়োগ হয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, দিনাজপুরে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের নির্দেশনায় তালিকার শীর্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের রাখতে এবং জামায়াত ও এনসিপির নেতাদের নাম বাদ দিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। রাজশাহীর কয়েকটি উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তারা বিএনপির এমপিদের দেওয়া তালিকা থেকে নিয়োগের কথা স্বীকার করেছেন। 
চাহিদার চেয়ে সারের মজুত বেশি– সরকারি এ ভাষ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, তাহলে সারের জন্য কৃষকের হাহাকার কেন? 
মন্ত্রীদের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন জামায়াত সেক্রেটারি। তিনি বলেন, সারের দায়িত্ব কৃষিমন্ত্রীর, কিন্তু কথা বলছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। 
শুধু বিরোধী দলের এমপিদের আসনে সার সংকট হচ্ছে– শাহে আলমের এ বক্তব্য নাকচ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিএনপির ১৪ এমপির এলাকায় সার সংকট হয়েছে। সার সংকটের বিষয়ে সরকার জাতিকে অসত্য তথ্য দিয়েছে। 

ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, প্রকাশ্যে যোগ্যতা মূল্যায়ন করে ডিলার নিয়োগসহ ছয় দফা দা‌বি জানান গোলাম পরওয়ার।
সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেবে কিনা– প্রশ্নে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, নিজেদের সুবিধা মতো সংবিধান সংশোধন করে ফ্যাসিস্টদের মতো আজীবন ক্ষমতায় থাকতে কর্তৃত্ববাদী সাংবিধানিক কাঠামো তৈরিতে ব্যস্ত সরকার। সরকারই চায় না যে বিরোধী দল সংবিধান সংস্কারে অংশগ্রহণ করুক। 
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×