ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজায় ২৭২৭ মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি

দুর্গাপূজায় ২৭২৭ মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি
×
×

শুক্রবার রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বাহিনীর পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান। ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:২০

শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে দেশের ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এদিকে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্ত থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ধরে নিয়ে যাওয়া দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত আনতে বাহিনীটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

শুক্রবার রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরেও বিজিবির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। পূজামণ্ডপের অবস্থান ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বিজিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিরাপত্তার আওতায় থাকা মণ্ডপগুলোর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ৪২৫টি, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ১১৯টি এবং দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার ১৮৩টি মণ্ডপ রয়েছে। সীমান্তবর্তী মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিজিবি মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। অন্য এলাকায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তা দেবে।

তিনি জানান, মণ্ডপগুলোর সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও রেকি করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং তথ্য আদান-প্রদানে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রস্তুতি যাচাইয়ে মহড়ার পাশাপাশি সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি। এ জন্য ডিএমপি ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রস্তুতি রয়েছে।

বিএসএফের হাতে দুই পুলিশ সদস্য

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল সীমান্ত থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও এক কনস্টেবলকে দ্রুত ফেরত আনার বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে বলে জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান।

তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে বিএসএফের সঙ্গে আমাদের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে। আমরা খুব শিগগির আমাদের দুজন পুলিশ সদস্যকে ফেরত পাব। সে প্রস্তুতি চলছে। তাঁরা অক্ষত আছেন, তাঁদের কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি।’

বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গেলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও অস্বাভাবিক নয়। দুই পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। দুই দেশের মধ্যে বিনিময় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে এএসআই ইমরান ও কনস্টেবল রোহিতকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ।

২ হাজার ৮৬ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির চলমান সীমান্ত অভিযান ও উদ্ধার কার্যক্রমের তথ্যও তুলে ধরা হয়। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক, স্বর্ণ, বস্ত্র ও প্রসাধনীসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।

এ সময়ে ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি ইয়াবা, ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, প্রায় ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, ৯ কেজি হেরোইন ও ২৮ হাজার বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে। মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১ হাজার ৫৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অবৈধ অস্ত্রবিরোধী অভিযানে ৭৮টি পিস্তল, সাতটি রাইফেল, একটি এসএমজি, সাতটি গ্রেনেড, ১২টি মাইন ও ৩ হাজার ২১৩ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১ হাজার ৯৫৭ জনকে আটক করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মানবপাচার প্রতিরোধে নারী ও শিশুসহ ৪২ জনকে পাচারের সময় উদ্ধার এবং ২০ জন মানবপাচারকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৩টি সীমান্তবর্তী জেলায় ১৮২টি ঘটনায় ১ হাজার ২৭৫ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ১৫৮ মেট্রিক টন রাসায়নিক সার, ১ লাখ ২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল এবং ১৫ হাজার লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×