শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু
চক্ষুদানে দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা আজ, কালও সপ্তমী
ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজা। ঢাকঢোল, কাঁসর, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে মুখর দেশের পূজামণ্ডপগুলো। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে তোলা -মাহবুব হোসেন নবীন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৩ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৩৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হলো শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। গতকাল শুক্রবার মহাষষ্ঠীতে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা এবং আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে সূচনা ঘটেছে বাঙালির শারদোৎসবের।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে গতকাল বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে তারা বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
এদিকে গতকাল সকালে মণ্ডপ-মন্দিরের বেলতলায় ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা শুরু হয়। ষোড়শ উপচারে দেবী দুর্গাকে পূজা দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় অধিবাস ও আমন্ত্রণের মাধ্যমে মূল মণ্ডপে মাতৃত্ব ও শক্তির প্রতীক দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আমন্ত্রণ জানান ভক্তরা।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনে আজ শনিবার মহাসপ্তমী। এ বছর সপ্তমী তিথি দুদিন পড়ায় আগামীকাল রোববারও মহাসপ্তমী উদযাপিত হবে। আজ মহাসপ্তমীর প্রথম দিনে সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান, নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তমাদি কল্পারম্ভ এবং সপ্তমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এই চক্ষুদানের মাধ্যমে প্রতিমায় প্রাণ প্রতিষ্ঠা পাবে।
বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে দেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আনন্দ ও উৎসাহ-উদ্দীপনার। ঢাকা মহানগরীর ২৫৮টিসহ সারাদেশের ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে শুক্রবার দুর্গাপূজা শুরু হয় আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে। হিন্দুদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের মানুষ যোগ দেওয়ায় উৎসব সার্বজনীন রূপ নিয়েছে। সারাদেশের মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ আর উলুধ্বনির শব্দ দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনের বার্তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।
পূজা ঘিরে সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ, আনসার-ভিডিপির পাশাপাশি কোথাও কোথাও নিযুক্ত করা হয় সেনাবাহিনী, এসআরবি ও বিজিবি সদস্যদের। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের ছিল সতর্ক পাহারা। তবে শুক্রবার থেকে পূজা শুরু হলেও রাজধানীর মণ্ডপগুলোতে ভক্ত-দর্শনার্থীর ভিড় জমে ওঠেনি।
গতকাল সকালে রাজধানীতে কেন্দ্রীয় পূজা উৎসব বলে পরিচিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে বেলতলায় দুর্গাদেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা হয়। এর পর ভক্তরা মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে দেবীকে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন।
গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বনানী কামাল আতাতুর্ক পার্কে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ‘জলজ: জীবন, সৃষ্টি ও পরম শক্তির মহাজাগতিক বন্দনা’– এ প্রতিপাদ্যে পূজামণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। স্থপতি অমিতি কুন্ডু এবং শিল্পী-গবেষক পার্থপ্রতিম সাহার পরিকল্পনা, নকশা ও তত্ত্বাবধানে বাঁশ, বেত, পাটসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে বহুস্তরবিশিষ্ট মণ্ডপটি নির্মাণ করা হয়েছে।
সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল সন্ধ্যায় যান বনানী পূজামণ্ডপে। তিনি বলেন, কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। প্রত্যেকের নিজের বিবেক অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
সকালে মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির পরিদর্শনে যান কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মঈনুল হাসান। তিনি জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে কোস্টগার্ড।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে বলেন, দুর্গাপূজা ঘিরে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। বিকেলে ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে যান বিজিবির ঢাকা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল ইসলাম। এর আগে পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করেন বাহিনীর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান।
- বিষয় :
- উৎসব মণ্ডল