ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

মাঠে মাঠে নুয়ে পড়েছে কাঁচা-পাকা ধান

মাঠে মাঠে নুয়ে পড়েছে  কাঁচা-পাকা ধান
×
×

অসময়ের বৃষ্টিতে নুয়ে পড়া আমন ধানের পরিচর্যা করছেন একজন কৃষক। নাটোরের লালপুরের রাকসা মাঠ থেকে গতকাল শনিবার তোলা সমকাল

 ঈশ্বরদী (পাবনা) ও লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

মাঠে মাঠে কাঁচা-পাকা ধান। কিছু জমির ধান এখনও কাঁচা, কিছু জমির ধান প্রায় কেটে ঘরে তোলার অবস্থায় রয়েছে। এরই মধ্যে গত কয়েক দিনের অসময়ের ঝড়বৃষ্টিতে ধান গাছ নুয়ে পড়েছে। ক্ষেতে পানি জমে গেছে। এ অবস্থায় নুয়ে পড়া ধান বেঁধে দেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছে কৃষি অফিস। পাবনার ঈশ্বরদী এবং নাটোরের লালপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য জানা গেছে। 
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ঈশ্বরদী ও লালপুরে ১১৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এখন দুদিন আকাশ মেঘলা থাকার পর আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে যাবে। 

ঈশ্বরদীর মুলাডুলি গ্রামের কৃষক মুরাদ আলী মালিথা বলেন, প্রায় পাকা ধানের শীষসহ গাছগুলো জমির জলাবদ্ধতার মধ্যে শুয়ে পড়েছে। ১০-১৫ দিন পর যখন কাটা হবে তখন বিঘাপ্রতি চার-পাঁচ মণ ধান কম আসবে। সাঁড়াগোপালপুর গ্রামের কৃষক তানজিরুল আলম মিটো বলেন, আমার মতো এই এলাকার শত শত কৃষকের জমির রোপা আমন ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঘইল গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, এমনিতেই ধানের আবাদে  কৃষকের লাভ হয় না বললেই চলে। তার ওপর এবার ধান পাকার শেষ সময়ে ঝড়বৃষ্টিতে যে ক্ষতি হলো, তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ঈশ্বরদীতে রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল তিন হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে তিন হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন জানান, রোপা আমনের ফলন বেশ ভালো হয়েছিল, বিশেষ করে ব্রি-১০৩ জাতের রোপা আমনের ফলন বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২২ মণ হবে– এমনটা ধারণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, মধ্য কার্তিকে অসময়ের ঝড়বৃষ্টির প্রভাবে ধান বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে এবার রোপা আমন ধানের ফলন বিঘাপ্রতি প্রায় ৫ মণ করে কম পেতে পারেন কৃষক।

১৫০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত 
নাটোরের লালপুরে গত তিন দিনের বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় অন্তত ১৫০ হেক্টর জমির আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাঠে পাকা ও আধা পাকা ধান গাছ মাটিতে নুয়ে পড়ে আছে। ক্ষেতে জমে থাকা পানি দ্রুত না সরলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। 
আর এক সপ্তাহ পরেই মাঠগুলোতে শুরু হবে আমন ধান কাটার উৎসব। এমন সময় তিন দিন বৃষ্টি হয়। লালপুর উপজেলার রাকসা গ্রামের আবুল কালাম এ বছর তিন বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ধান ভালোই হয়েছিল। সপ্তাহখানেক পরেই ধান কাটা শুরু করা যেত। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে প্রায় ১০ কাঠা জমির ধান হেলে পড়েছে। ক্ষেতে জমে আছে হাঁটুসমান পানি। দ্রুত জমির পানি না নামলে হেলে পড়া ধান পানিতে নষ্ট হয়ে যাবে। একই এলাকার সাইদুর রহমান বলেন, এখনও আবহাওয়া পরিষ্কার হয়নি। দ্রুত পানি না সরলে বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন তিনি।
লালপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, লালপুরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ হাজার ২১৫ টন।  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, এ বছর উপজেলাজুড়ে ৯ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এখনও ধান কাটা শুরু হয়নি। এর মধ্যে বুধবার থেকে তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে ১৫০ হেক্টর জমির ধান নুয়ে পড়ে আক্রান্ত হয়েছে। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। 
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে গেলে নুয়ে পড়া ধানের তেমন ক্ষতি হবে না। তবে দ্রুত পানি না সরলে ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরা। তিনি জানান, নুয়ে পড়া ধান বেঁধে দেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×