মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির রাজনীতি করার অধিকার নেই: ইশরাক
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির সেমিনার
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ ও করণীয় শীর্ষক সেমিনার
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ১৮:৫৯
‘মাদক কারবারের সাথে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে। মাদকের হটস্পটগুলোতে যে সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে সেই দলের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে স্পটগুলো পরিচালনা করে থাকে কিছু কুচক্রী মহল। মাদক কারবারের সাথে জড়িত কোনো ব্যক্তির রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। মাদকের সাথে কারও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে তার মুখোশ উন্মোচন করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। মাদকের বিরুদ্ধে আমার যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।’
শুক্রবার রাজধানীর তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এমপি এসব কথা বলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ ও মনোচিকিৎসা বিদ্যার অধ্যাপক ডা. এম এ মোহিত কামাল।
ইশরাক হোসেন বলেন, বর্ডার অঞ্চল থেকে নানারকম কারসাজি করে সারাদেশে মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর সাথে কিছু নামকরা পরিবহনের সম্পৃক্ততার কথা শোনা যাচ্ছে। একইসাথে কিছু ভূঁইফোড় ফামার্সিউটিক্যাল কোম্পানিরও মাদক কারবারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। একটি গোষ্ঠি পরিকল্পিতভাবে জিও পলিটিক্স ব্যবহার করে মাদক ছড়িয়ে দিয়ে আমাদের সমাজ ও জাতিকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে। যারা মাদকাসক্ত তারা জঘন্য নৃশংস অপরাধের সাথে জড়িত।
মূল প্রবন্ধে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বাংলাদেশে মাদকের সহজলভ্যতা এর বিস্তার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। হাত বাড়ালেই এখন পাওয়া যাচ্ছে গাঁজা, ইয়াবাসহ উচ্চমূল্যের বিভিন্ন মাদক। ইয়াবা এখন শহর থেকে গ্রাম—গঞ্জে, পাড়া—মহল্লায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি অনলাইনে অর্ডার দিলে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মাদকদ্রব্য। মাদকের সাথে ক্রাইম সম্পৃক্ত। যারা মাদক ও ক্রাইমের সাথে জড়িত, তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। ক্ষমতার পালাবদলের সাথে মাদক কারবারিরা তাদের রাজনৈতিক রঙ পাল্টায়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তাই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো মাদক কারবারি যাতে সুবিধা নিতে না পারে সে ব্যাপারে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকসেবী, মাদক বহনকারী ও ছোট কারবারিরা ধরা পড়লেও এর মূলহোতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। মাদক পরিবহনে এখন ব্যবহার করা হচ্ছে বহুমাত্রিক কৌশল। কখনও দোকানের আড়ালে, কখনও ভ্রাম্যমাণ দোকানে, কখনও হাঁটতে থাকা ব্যক্তির শরীরে, আবার কখনও যাত্রীবাহী যানবাহনের গোপন চেম্বারে লুকিয়ে আনা-নেওয়া করা হচ্ছে মাদক। শুধু তাই নয়, পাকস্থলীর ভেতর এমনকি মোবাইল ফোনের ব্যাটারির চেম্বারেও ইয়াবা বহন করা হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ শুধু সরকার কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন একাত্তর টিভি’র বার্তা প্রধান শাহ আজিজুর রহমান কিরণ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. মুন্না হুসাইন, ইডেন মহিলা কলেজ বিতর্ক দলের দলনেতা মাসনুন নাবিলা আলম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক জাতীয় বিতার্কিক মো. কাউছার আলম। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘মাদককে না বলি, মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ স্লোগানে সেমিনারটি আয়োজনে সহযোগিতা করছে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটি ও ইডেন মহিলা কলেজ ডিবেটিং ক্লাব।
- বিষয় :
- মাদক
- রাজনৈতিক পরিচয়
- ইশরাক হোসেন