হরিজনদের উচ্ছেদের অভিযোগ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ০৬:৩৮ | আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ০৭:২৬
দেশের বিভিন্ন স্থানে হরিজন সম্প্রদায়ের কলোনী উচ্ছেদ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হরিজন ঐক্য পরিষদ। সংগঠনের নেতারা বলেছেন, উচ্ছেদের শিকার হাজার পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে বাস করছে। তারা হরিজনদের কলোনির মালিকানা প্রদান ও খাস জমিতে তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
পরিষদের সভাপতি বাবু কৃষ্ণলালের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। এতে 'তথ্যপত্র' পাঠ করেন পরিষদের মহাসচিব নির্মল চন্দ্র দাস। সংবাদ সম্মেলনের সহায়তায় ছিলো বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।
তথ্যপত্রে নির্মল চন্দ বলেন, এদেশে অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত দলিত শ্রেণির মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭৫ লাখ। এর মধ্যে হরিজন জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৫ লাখ। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই বৈষম্য ও বঞ্চনাই যেন হরিজনদের নিয়তি। হরিজনদের কোন জমি নেই। তারা ভূমিহীন। কিন্তু সবকিছুকে ছাড়িয়ে হরিজনদের জীবনকে সঙ্কটময় করে তুলেছে বসতি থেকে বারবার উচ্ছেদের ঘটনা।
তিনি বলেন, হরিজন কলোনীগুলোতে আবাসন করে দেওয়ার কথা থাকলেও উচ্ছেদ তাদের পিছু ছাড়ছে না। এরই মধ্যে ঢাকার গোপীবাগ রেল কলোনী, ময়মনসিংহ সদর থানার কেওয়াটখালী হরিজন কলোনী, নাটক ঘর লেইন হরিজন কলোনী, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে হরিজন কলোনী, নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে হরিজন কলোনী, কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে মেডিক্যাল হরিজন কলোনী, পাবনার ঈশ্বরদী থানার নতুন হাট হরিজন কলোনী এবং গাজীপুরের টঙ্গী হরিজন কলোনীর হাজার পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে ঠাঁই নিয়েছে।
তথ্যপত্রে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো- জেলা ও উপজেলায় হরিজন কলোনী উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ করা, হরিজন জনগোষ্ঠীর আবাসন নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা, কলোনীগুলোতে হরিজনদের মালিকানা প্রদান, খাস জমিতে হরিজনদের পুনর্বাসন করা ও তাদের নামে জমি বরাদ্দ দেওয়া এবং হরিজনদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে জমি অধিগ্রহণ করা।
সংবাদ সম্মেলনে তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, মানুষকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন একটা ভুল ধারণা। উন্নয়নের কেন্দ্রে রাখতে হবে মানুষকে। তিনি বলেন, হরিজন সম্প্রদায় শহরকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে একে বসবাসের উপযোগী করে তোলে। যদি তারাই না থাকে, তাহলে শহর বসবাসের উপযোগীতা হারাবে। এজন্য তদের অধিকার রক্ষায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
- বিষয় :
- হরিজন সম্প্রদায়
