বেগম রোকেয়া দিবস
স্মৃতিকেন্দ্রটি এবারও চালু হলো না
×
রংপুরে স্মৃতিকেন্দ্রে বেগম রোকেয়ার ভাস্কর্য সমকাল
হাবিবুর রহমান সোনা, মিঠাপুকুর (রংপুর)
প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২০ | ১২:০০
প্রতিবছর ৯ ডিসেম্বর দিনটি পায়রাবন্দবাসীর কাছে একটি আনন্দের দিন। এই দিন এলেই এলাকার মানুষের খুশির সীমা থাকে না। কারণ, এই দিনে ভারতীয় উপমহাদেশে নারী জাগরণের পথিকৃৎ মহীয়সী বেগম রোকেয়া রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার অজপাড়াগাঁ পায়রাবন্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এই দিন তার মৃত্যু দিবসও। তাই প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর সাড়ম্বরে বেগম রোকেয়া দিবস পালন করা হয় পায়রাবন্দে। কিন্তু, এবার তা আর হচ্ছে না। করোনা মহামারির কারণে অনাড়ম্বর পরিবেশে স্বল্প পরিসরে পালিত হবে বেগম রোকেয়া দিবস।
৩০ বছর আগেও পর্দাপ্রথা, ফতোয়া, কুসংস্কার আর কূপমণ্ডূকতায় ভরা ছিল বেগম রোকেয়ার জন্মভূমি পায়রাবন্দ। এখন সে অবস্থা আর নেই। বদলে যাচ্ছে এই জনপদ। কুসংস্কারে মেয়েদের বন্দি জীবনযাপনের ঘটনা এখন চোখে পড়ে না। এখানকার নারীরা এখন অনেক অগ্রসর। তাদের কঠোর পরিশ্রমে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে পায়রাবন্দে। এখানকার মেয়েরা এখন দলবেঁধে স্কুল-কলেজে যাচ্ছে। বাল্যবিয়ে তেমন একটা নেই। এই এলাকার নারীরা কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। পায়রাবন্দে বেগম রোকেয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত ডিগ্রি কলেজটি জাতীয়করণ হয়েছে। তার জন্মভূমিতে একটি ১০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ হচ্ছে।
পায়রাবন্দবাসীর বড় দুঃখ একটাই- ১৯ বছরেও চালু হয়নি বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি।
এবার রোকয়া দিবসে এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি, বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি চালু করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এ ছাড়া বেগম রোকেয়ার বসতভিটার ৫১ একর সম্পত্তি বেহাত হয়েছে। দেখভাল ও তত্ত্বাবধানের অভাবে এসব সম্পত্তি প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার সোদপুর থেকে বেগম রোকেয়ার দেহাবশেষ পায়রাবন্দে এনে সমাহিত করার দাবিও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্মৃতিকেন্দ্র চালুর দাবি :২০০১ সালের জুলাই মাসে বেগম রোকেয়ার জন্মভূমি পায়রাবন্দে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ একর ১৫ শতক জমির ওপর স্মৃতিকেন্দ্র উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০০৪ সালে সংগীত প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল। কিছুদিন পরই তার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে আর চালু হয়নি স্মৃতিকেন্দ্রটি। পায়রাবন্দবাসী অবিলম্বে স্মৃতিকেন্দ্রের কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছে।
সরেজমিনে বেগম রোকেয়ার বসতভিটা পায়রাবন্দে গিয়ে দেখা গেছে, স্মৃতিকেন্দ্রটিতে মানসম্মত একটি রেস্টহাউস, অডিটোরিয়াম, সেমিনার কক্ষ, লাইব্রেরি, গবেষণাগার, সংগ্রহশালা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নামাজ ঘর ও স্টাফ কোয়ার্টার রয়েছে। মূল ভবনের সামনে পিতলের তৈরি বেগম রোকেয়ার একটি ভাস্কর্য রয়েছে। এখানে আপাতত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা দুইজন শিক্ষক দিয়ে সংগীত প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর চালু হওয়া এই সংগীত বিষয়ে ৪০ ছাত্রী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তবে করোনার কারণে তা এখন বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেগম রোকেয়ার জীবনকর্ম সম্পর্কে গবেষণা, তার গ্রন্থাবলির অনুবাদ, প্রচার ও প্রকাশনা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং স্থানীয় তরুণদের নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়নি। এখানে একজন উপপরিচালকসহ বিভিন্ন পদে ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে উপপরিচালককে ৩ মাস আগে ঢাকায় বাংলা একাডেমিতে বদলি করা হয়েছে।
বাংলা একাডেমি থেকে ২০০৮ সালে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তরের পর বিকেএমইএর শ্রমিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়। স্মৃতিকেন্দ্রটির মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে সেখানে পোশাক শ্রমিক তৈরির প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা। পায়রাবন্দ স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল ও হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ বিকেএমইএকে উচ্ছেদের জন্য ২০১২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করেন। উচ্চ আদালত স্মৃতিকেন্দ্রের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শ্রমিক তৈরির কারখানা বন্ধের আদেশ দেন। পরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ২০১২ সালের ১ মে বিকেএমইএকে উচ্ছেদ করে। তখন থেকে এখানে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকার পর সম্প্রতি স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্যোগে সংগীত প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। তবে মূল কার্যক্রম চালু হয়নি।
৫১ একর সম্পত্তি বেহাত :বেগম রোকেয়ার বাবা জহির উদ্দিন সাবের চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার। সাড়ে ৩শ বিঘার জমির ওপর তার বিশাল বাড়ি ছিল। তবে, ১৯৪০ সালের এসএ রেকর্ড অনুযায়ী ৫১ একর ৪৬ শতক সম্পত্তি বেদখল হয়ে গেছে। রফিকুল ইসলাম নামে একজন এসব সম্পত্তি উদ্ধারে উচ্চ আদালতে মামলা করেছেন।
মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন ভূঁইয়া বলেন, বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের জটিলতা সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন এটির কার্যক্রমে আর কোনো বাধা নেই।
জীবন ও কর্ম :বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালে পায়রাবন্দের একটি রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা জহির উদ্দিন সাবের চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার। জহির উদ্দিনের স্ত্রী ৪ জন। তারা হলেন- রাহাতুন্নেছা, সোনাবর, ছালেমা ও সুফিয়া। রোকেয়া ছিলেন রাহাতুন্নেছার মেয়ে। তার আরও দুই বোন ও এক ভাই ছিলেন। বোনদের নাম করিমুন্নেছা ও হুমায়রা। একমাত্র ভাই খলিলুল্লাহ সাবের চৌধুরী। ওই পরিবারে নারী শিক্ষা ছিল একেবারে নিষিদ্ধ। কিন্তু রোকেয়া ভাইয়ের সহযোগিতায় অতি গোপনে শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৮৯৮ সালে ১৬ বছর বয়সে তার ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়। বৈবাহিক জীবনে তিনি ২ সন্তানের মা হন। কিন্তু দুই সন্তানই অকালে মারা যায়। ১৯০৯ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ভাগলপুরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে কাজ করেন। কিন্তু সাখাওয়াত হোসেনের প্রথম স্ত্রীর মেয়ে ও জামাতার বিরোধিতার কারণে তিনি ভাগলপুর ত্যাগ করে কলকাতায় যান। সেখানে ১৯১১ সালে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
তার অনেক উপন্যাস রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- সুলতানার স্বপ্ন, মতিচূর, অবরোধবাসিনী, পদ্মরাগ ইত্যাদি। ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর ৬৩ বছর পর অনেক সংগ্রাম করে অবশেষে ১৯৯৫ সাল থেকে সরকারিভাবে রোকেয়া দিবস পালন করা হচ্ছে।
৩০ বছর আগেও পর্দাপ্রথা, ফতোয়া, কুসংস্কার আর কূপমণ্ডূকতায় ভরা ছিল বেগম রোকেয়ার জন্মভূমি পায়রাবন্দ। এখন সে অবস্থা আর নেই। বদলে যাচ্ছে এই জনপদ। কুসংস্কারে মেয়েদের বন্দি জীবনযাপনের ঘটনা এখন চোখে পড়ে না। এখানকার নারীরা এখন অনেক অগ্রসর। তাদের কঠোর পরিশ্রমে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে পায়রাবন্দে। এখানকার মেয়েরা এখন দলবেঁধে স্কুল-কলেজে যাচ্ছে। বাল্যবিয়ে তেমন একটা নেই। এই এলাকার নারীরা কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। পায়রাবন্দে বেগম রোকেয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত ডিগ্রি কলেজটি জাতীয়করণ হয়েছে। তার জন্মভূমিতে একটি ১০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ হচ্ছে।
পায়রাবন্দবাসীর বড় দুঃখ একটাই- ১৯ বছরেও চালু হয়নি বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি।
এবার রোকয়া দিবসে এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি, বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি চালু করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এ ছাড়া বেগম রোকেয়ার বসতভিটার ৫১ একর সম্পত্তি বেহাত হয়েছে। দেখভাল ও তত্ত্বাবধানের অভাবে এসব সম্পত্তি প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার সোদপুর থেকে বেগম রোকেয়ার দেহাবশেষ পায়রাবন্দে এনে সমাহিত করার দাবিও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্মৃতিকেন্দ্র চালুর দাবি :২০০১ সালের জুলাই মাসে বেগম রোকেয়ার জন্মভূমি পায়রাবন্দে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ একর ১৫ শতক জমির ওপর স্মৃতিকেন্দ্র উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০০৪ সালে সংগীত প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল। কিছুদিন পরই তার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে আর চালু হয়নি স্মৃতিকেন্দ্রটি। পায়রাবন্দবাসী অবিলম্বে স্মৃতিকেন্দ্রের কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছে।
সরেজমিনে বেগম রোকেয়ার বসতভিটা পায়রাবন্দে গিয়ে দেখা গেছে, স্মৃতিকেন্দ্রটিতে মানসম্মত একটি রেস্টহাউস, অডিটোরিয়াম, সেমিনার কক্ষ, লাইব্রেরি, গবেষণাগার, সংগ্রহশালা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নামাজ ঘর ও স্টাফ কোয়ার্টার রয়েছে। মূল ভবনের সামনে পিতলের তৈরি বেগম রোকেয়ার একটি ভাস্কর্য রয়েছে। এখানে আপাতত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা দুইজন শিক্ষক দিয়ে সংগীত প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর চালু হওয়া এই সংগীত বিষয়ে ৪০ ছাত্রী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তবে করোনার কারণে তা এখন বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেগম রোকেয়ার জীবনকর্ম সম্পর্কে গবেষণা, তার গ্রন্থাবলির অনুবাদ, প্রচার ও প্রকাশনা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং স্থানীয় তরুণদের নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়নি। এখানে একজন উপপরিচালকসহ বিভিন্ন পদে ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে উপপরিচালককে ৩ মাস আগে ঢাকায় বাংলা একাডেমিতে বদলি করা হয়েছে।
বাংলা একাডেমি থেকে ২০০৮ সালে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তরের পর বিকেএমইএর শ্রমিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়। স্মৃতিকেন্দ্রটির মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে সেখানে পোশাক শ্রমিক তৈরির প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা। পায়রাবন্দ স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল ও হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ বিকেএমইএকে উচ্ছেদের জন্য ২০১২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করেন। উচ্চ আদালত স্মৃতিকেন্দ্রের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শ্রমিক তৈরির কারখানা বন্ধের আদেশ দেন। পরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ২০১২ সালের ১ মে বিকেএমইএকে উচ্ছেদ করে। তখন থেকে এখানে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকার পর সম্প্রতি স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্যোগে সংগীত প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। তবে মূল কার্যক্রম চালু হয়নি।
৫১ একর সম্পত্তি বেহাত :বেগম রোকেয়ার বাবা জহির উদ্দিন সাবের চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার। সাড়ে ৩শ বিঘার জমির ওপর তার বিশাল বাড়ি ছিল। তবে, ১৯৪০ সালের এসএ রেকর্ড অনুযায়ী ৫১ একর ৪৬ শতক সম্পত্তি বেদখল হয়ে গেছে। রফিকুল ইসলাম নামে একজন এসব সম্পত্তি উদ্ধারে উচ্চ আদালতে মামলা করেছেন।
মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন ভূঁইয়া বলেন, বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের জটিলতা সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন এটির কার্যক্রমে আর কোনো বাধা নেই।
জীবন ও কর্ম :বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালে পায়রাবন্দের একটি রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা জহির উদ্দিন সাবের চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার। জহির উদ্দিনের স্ত্রী ৪ জন। তারা হলেন- রাহাতুন্নেছা, সোনাবর, ছালেমা ও সুফিয়া। রোকেয়া ছিলেন রাহাতুন্নেছার মেয়ে। তার আরও দুই বোন ও এক ভাই ছিলেন। বোনদের নাম করিমুন্নেছা ও হুমায়রা। একমাত্র ভাই খলিলুল্লাহ সাবের চৌধুরী। ওই পরিবারে নারী শিক্ষা ছিল একেবারে নিষিদ্ধ। কিন্তু রোকেয়া ভাইয়ের সহযোগিতায় অতি গোপনে শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৮৯৮ সালে ১৬ বছর বয়সে তার ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়। বৈবাহিক জীবনে তিনি ২ সন্তানের মা হন। কিন্তু দুই সন্তানই অকালে মারা যায়। ১৯০৯ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ভাগলপুরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে কাজ করেন। কিন্তু সাখাওয়াত হোসেনের প্রথম স্ত্রীর মেয়ে ও জামাতার বিরোধিতার কারণে তিনি ভাগলপুর ত্যাগ করে কলকাতায় যান। সেখানে ১৯১১ সালে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
তার অনেক উপন্যাস রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- সুলতানার স্বপ্ন, মতিচূর, অবরোধবাসিনী, পদ্মরাগ ইত্যাদি। ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর ৬৩ বছর পর অনেক সংগ্রাম করে অবশেষে ১৯৯৫ সাল থেকে সরকারিভাবে রোকেয়া দিবস পালন করা হচ্ছে।
- বিষয় :
- বেগম রোকেয়া দিবস
