ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

'প্রয়োজন ছাড়া' প্রসূতির সিজার, ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

'প্রয়োজন ছাড়া' প্রসূতির সিজার, ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ০৮:৫৮

'প্রয়োজন ছাড়া' লক্ষ্মীপুরের এক প্রসূতিকে অস্ত্রোপচারের (সিজার) ঘটনায় নোয়াখালীর ট্রাস্ট ওয়ান হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেড কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিটে প্রসূতি ওই নারীর শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার গোরারবাগ গ্রামের জামাল হোসেন বিপুর মেয়ে রিমা সুলতানা নিপার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জে আর খান রবিন বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন।

রিটে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটে বিবাদীরা হলেন- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাপরিদর্শক (আইজি), ট্রাস্ট ওয়ান হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইতি আক্তার, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও অপারেশন থিয়েটারে কর্তব্যরত সহকারী।

রিটে বলা হয়, রিমা সুলতানা নিপা গত ৮ জুন প্রসব বেদনা নিয়ে নোয়াখালীর ট্রাস্ট ওয়ান হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তখন জানায়, রোগীর সিজার বাধ্যতামূলক। পরদিন চিকিৎসকের পরামর্শে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। যদিও আলট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রসূতির জটিলতা ছিল না, এমনকি অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন ছিল না। গত ১২ জুন প্রসূতিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিলে তিনি বাড়িতে ফিরে যান। এরপর প্রসূতির শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়লে ১৪ জুন তাকে আবার একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার সেলাইয়ের জায়গায় ক্ষত দেখা দেয়। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি, বরং প্রসূতির বাবার অনুরোধে অন্য হাসপাতালের দুজন চিকিৎসককে নিয়ে আসেন। পরে ওই চিকিৎসকরা এবং সিজারকারী চিকিৎসক আয়েশা মজুমদার প্রসূতির অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। গত ২০ জুন বিআরবি হাসপাতালে ভর্তির পর দ্বিতীয় দফায় নিপার অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা। পরে সুস্থ হয়ে ওঠেন নিপা। এরপর বিআরবি হাসপাতালের চিকিৎসকরা সুপারিশে বলেন, নিপার প্রথম অস্ত্রোপচার দরকার ছিল না।

রিটে উল্লেখ করা হয়, সবমিলিয়ে প্রসূতির চিকিৎসায় তার পরিবারের ব্যয় হয় ৫ লাখ টাকা। সঙ্গে ক্ষতিপূরণ ২০ লাখ টাকাসহ মোট ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে ট্রাস্ট ওয়ান হাসপাতালের বিরুদ্ধে রিটটি করা হয়।

আরও পড়ুন

×