ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষার্থী ইশরাক কি ফিরবে না?

শিক্ষার্থী ইশরাক কি ফিরবে না?
×

ইন্দ্রজিৎ সরকার

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১৫:৫৬ | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১৬:১৫

২০১৭ সালে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন রাজনীতিক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বেশ কিছু মানুষ। তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী ছিলেন কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশরাক আহম্মেদ। ছুটি কাটাতে দেশে এসেছিলেন তিনি। ওই বছরের ২৬ আগস্ট  ধানমন্ডিতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর ফিরে আসেননি আর। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটসহ সম্ভাব্য সব স্থানেই ধরনা দিয়েছেন তার বাবা জামাল উদ্দিন আহম্মেদ। খোঁজ দেওয়া তো দূরের কথা, এখন তাকে কেউ কোনো আশ্বাসও দেন না। তবু তিনি অসীম আশায় বুক বেঁধে আছেন। কারণ ওই সময়ে নিখোঁজ প্রায় সবাই পরে ফিরে এসেছেন। সর্বশেষ চলতি বছরের মার্চে ফিরে আসেন ১৫ মাস ধরে নিখোঁজ সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। এভাবে ফিরে আসা অন্যদের মতো তিনিও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। ফলে জানা যায়নি নিখোঁজ রহস্যের নেপথ্যের কোনো কথা।

পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, 'পরিবারের অভিযোগের সূত্র ধরে ইশরাক আহম্মেদের নিখোঁজের ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করছে। তবে এখনও এ ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত আছে।'

ইশরাকের বাবা তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, 'এতদিন পরও বুঝতে পারছি না কেন এমন হলো? রাজনীতি করত না, কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতাও ছিল না। এমন নিরীহ-নির্দোষ ছেলেটা হঠাৎ উধাও হয়ে গেল! কেউ তাকে দেখেনি, কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সে কি হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে? কাঁদতে কাঁদতে আমাদের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। তবু আশা ছাড়িনি। এখনও দরজায় শব্দ হলে বুক ধক্‌ করে ওঠে, ইশরাক ফিরে এলো বুঝি!'

পারিবারিক সূত্র জানায়, ইশরাক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এর সূত্র ধরে তখন ইশরাকের বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তারা জানান, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ধানমন্ডিতে একসঙ্গে আড্ডা দেন তারা। পরে নিজেদের বাড়ির উদ্দেশে চলে যান। ঘটনাস্থলের পাশের ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাদের কথার সত্যতা পাওয়া যায়। সর্বশেষ সাত মসজিদ রোডে দেখা গেছে ইশরাককে। তবে বন্ধুদের সবাই ঠিকঠাক বাড়িতে পৌঁছলেও ইশরাকের কোনো হদিস মেলেনি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে ইশরাকের নিখোঁজের ঘটনাটি সাধারণ কোনো অপহরণ নয় বলে মনে করছেন স্বজন ও তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা। কারণ এখন পর্যন্ত কেউ পরিবারের সদস্যদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেনি। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা ওই সময় মোটা অঙ্কের টাকা চেয়েছিলেন, যা তখন দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে একটি সূত্র জানায়।

২০১৭ সালে রহস্যজনক নিখোঁজ প্রায় সবারই পরে সন্ধান মিলেছে। তাদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে ফিরে আসেন। কাউকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আবার বিভিন্ন অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও দেখানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা সৈয়দ সাদাত আহমেদ, ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ কুমার রায়, শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান সিজার, বাংলাদেশ জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি মিঠুন চৌধুরী ও দলটির কেন্দ্রীয় নেতা আশিক ঘোষ অসিত, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এএমএম আমিনুর রহমান, কবি-প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার, সাংবাদিক উৎপল দাস, আইএফআইসি ব্যাংকের কর্মকর্তা শামীম আহমেদ, জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়র রুকনুজ্জামান, ফার্মাসিস্ট জামাল হোসেন, প্রকাশনা ব্যবসায়ী তানভীর ইয়াসিন করিম, প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান ও তার ভাই ফয়সাল রহমান।

আরও পড়ুন

×