ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এসডিজি অর্জনে পিপিপি জরুরি: আইসিসিবি

এসডিজি অর্জনে পিপিপি জরুরি: আইসিসিবি
×

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান- সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:৩৮

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) বাড়ানো খুবই জরুরি। নতুবা এসডিজির জন্য এ অঞ্চলে যে পরিমাণ বিনিয়োগ দরকার, তা হবে না। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসিবি) আয়োজিত সম্মেলনে বক্তাদের অনেকেই এ বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সম্মেলন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিন দিনের আলোচনার সার-সংক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি। গত মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এতে দেশি-বিদেশি গবেষক, উন্নয়ন কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ৮০০ ব্যক্তি অংশ নেন।

মাহবুবুর রহমান বলেন, সম্মেলনে অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি বিষয় বিশেষভাবে আলোচিত ছিল। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য উদ্ভাবনী নীতি ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। আলোচকরা পিপিপি জোরদার করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও বন্ড মার্কেট প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন। উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো অর্থায়নে আলাদা তহবিল, বেসরকারি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা, বাণিজ্যে অর্থায়ন, এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সহজে ব্যবসা করা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় অর্থায়ন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজে পুঁজির ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে সম্মেলনে। এসব আলোচনায় দেশি-বিদেশি বক্তারা বেশ কিছু সুপারিশ করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সহজে অর্থায়নের জন্য নীতি সংস্কার, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নতুন অর্থায়ন ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করা। এ ছাড়া আলোচকরা বলেছেন, দারিদ্র্য দূর ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় টেকসই ডিজিটাইজেশন লাগবে। এফডিআইর জন্য তথ্য পাওয়া সহজ করতে হবে। সবক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। আর্থিক প্রযুক্তি উন্নত করতে হবে।

আইসিসিবি সভাপতি বলেন, আলোচকরা মনে করেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য দেশগুলোর সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। এ জন্য আলোচনা খুবই জরুরি। এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং কীভাবে কাজ করে সাফল্য এসেছে তা তুলে ধরতে হবে। সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের জন্য জাতীয় পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছেন বক্তারা। দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছেন তারা। তারা বলেছেন, এ অঞ্চলে ব্যাংক ব্যবস্থা আরও উন্নত করা দরকার। যাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও সহজে প্রয়োজনীয় পুঁজি পায়।

তিনি আরও বলেন, এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের জন্য বেসরকারি খাতকে সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পরিবেশ ও সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। দেশে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা সরকারের সঙ্গে কাজ করার সামর্থ্য রাখে। কিন্তু সরকারের সঙ্গে কাজ করলে সেই ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে ওই সরকারের অনুগামী ধরা হয়। এই মানসিকতা থেকে বের হতে হবে। নতুবা ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসবে না। পাশাপাশি এও মনে রাখতে হবে, বেসরকারি খাত লাভ ছাড়া এক টাকাও বিনিয়োগ করবে না। এ জন্য বিনিয়োগের ধরন পরিবর্তন করতে হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে, যাতে অর্থায়ন শক্তিশালী হয়। অবশ্যই দেশগুলোকে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশে পিপিপি নিয়ে কাজ হলেও তার অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অরিজিৎ চৌধুরী বলেন, সরকার আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জাতীয় কৌশল প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আইসিসিবি আয়োজিত সম্মেলন সেই কৌশল তৈরিতে সহায়তা করবে। সরকারও মনে করে, এসডিজির লক্ষ্য অর্জন ও সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জরুরি।

এসকাপের উন্নয়ন অর্থায়ন বিভাগের প্রধান টেনটিপ সুভানিজ বলেন, উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিনিয়োগ। এ জন্য সকল খাতের উদ্যোক্তাদের সহজ অর্থায়ন ব্যবস্থা দরকার। দরকার প্রচুর তহবিলেরও। এ জন্য বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

এসকাপের সামস্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিভাগের অর্থনীতি বিষয়ক কর্মকর্তা মাসাতো অ্যাবে বলেন, এসডিজি অর্জনের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের বিকল্প নেই। কারণ যে উন্নয়ন লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, সেজন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ সরকার একা করতে পারবে না। এ জন্য বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতাও জরুরি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইসিসিবির মহাসচিব আতাউর রহমান।

আরও পড়ুন

×