ভারতের এনআরসি নিয়ে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উদ্বেগ
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা -সংগৃহীত ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:৪৭
ভারতের জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের হিন্দু বৌদ্ধ খিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
বিএনপি সমর্থিত হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক গৌতম চক্রবর্তী এ সময় বলেন, ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পাস হওয়ায় বাংলাদেশে বসবাসরত ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এ বিল আইনে পরিণত হওয়ার ফলে বাংলাদেশে সামান্য কোনো ঘটনা ঘটলেই দেশত্যাগের প্রবণতা বাড়বে।
তিনি বলেন, সহজেই ভারতের নাগরিক হওয়া যাবে- এ ধারণায় ভারতে আশ্রয় নেওয়ার আশঙ্কা থাকবে। ফলে এক সময় এ দেশে হিন্দুদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে।
ভারতের নাগরিকত্ব আইনের সমালোচনা করে লিখিত বক্তব্যে গৌতম চক্রবর্তী বলেন, এ আইনটি ধর্মীয় বিভাজনের ভিত্তিতে করার ফলে উভয় দেশের সংখ্যালঘুরা আতঙ্কিত হবে এবং সংখ্যাগুরুদের মধ্যেও দুঃখবোধের জন্ম হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। ভারতে বসবাসরত নাগরিকত্বহীন সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হবে এবং স্বাভাবিকভাবে আমাদের দেশে অনুপ্রবেশের প্রবণতা দেখা দেবে।
তিনি আরও বলেন, এ আইনের ফলে বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে অবস্থানকারী হিন্দুদের লাভ হলেও এদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের লাভের সম্ভাবনা কম। উভয় দেশে সংখ্যালঘুদের ক্ষতির আশঙ্কা থাকতে পারে; এ অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সম্প্র্রীতি বিনষ্ট হতে পারে এবং ধর্মীয় বিভাজনে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার, সম্পদ দখল, মন্দির ধ্বংস, মন্দিরের জায়গা দখল, নারীদের ওপর অত্যাচার ও দেশত্যাগের ঘটনা কমবেশি সব সময় চলতে থাকে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে গত ১০ বছরে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন গৌতম চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার, সম্পদ দখলের ঘটনা এবং সে কারণে দেশত্যাগের প্রবণতা কমবেশি বিদ্যমান। এ জন্য এদেশের অধিকাংশ অসাম্প্রদায়িক মানুষ দায়ী নয়। দায়ী কিছু সংখ্যক সাম্প্রদায়িক; সম্পদ লোভে অসাধু ব্যক্তিবর্গ।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, বিজন কান্তি সরকার, সদস্য জন গোমেজ, অমলেন্দু দাশ অপু, রমেশ দত্ত, দেবাশীষ রায় মধু, তরুণ দে, বিশ্বজিত ভদ্র, উত্তম কুমার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
