ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

শহীদ পরিবারের জমি আত্মসাৎ: ২ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

শহীদ পরিবারের জমি আত্মসাৎ: ২ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৮:৩৯

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারকে লিজ দেওয়া জমি জাল কাগজপত্রে দখল ও আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার নবাবপুরের দুই ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি করেন।

মামলার দুই আসামি হলেন- ঢাকার বংশালের ২৩৪-২৩৫ নং নবাবপুর রোডের শেখ মো. জাবেদ উদ্দিন ও ২২২ নং নবাবপুর রোডের মিরাজ মো. জাকির উদ্দিন।

এজাহারে বলা হয়, আসামিদ্বয় জনৈক তপন কুমার বসাকের নাম ব্যবহার করে জাল দলিল ও জাল রেকর্ডপত্র সরকারের বিভিন্ন দফতরে দাখিল করে শহীদ পরিবারের অনুকূলে লিজকৃত জমি দখল করেছেন। রাজধানীর ২২১ নং নবাবপুর রোডের ওই জমির পরিমাণ ০৬৬৪ অযুতাংশ। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বর্তমান মৌজা রেট অনুযায়ী এ জমির বর্তমান বাজার মূল্য ২ কোটি ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬৪ টাকা।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, জালিয়াতি করে দখল করা ওই জমির ওপর নির্মিত তিনতলা ভবন তড়িঘড়ি করে ভেঙে ফেলে নতুন বহুতল ভবনের বেজমেন্ট (ভিত্তি) নির্মাণ করা হয়েছে। 

আসামিরা দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪৭৭(ক)/১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন উল্লেখ করে এজাহারে আরও বলা হয়, পুলিশ কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, জব্দকৃত/সংগৃহীত রেকর্ডপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নবাবপুর রোডের ২২১ নং হোল্ডিংয়ের জায়গাটি সরকারি অর্পিত সম্পত্তি। ওই জমি ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এ কে এম শামসুল হক খানের মা মাসুদা খানমকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। এই জমি বর্তমানে শহীদ পরিবারের সর্বশেষ সদস্য আজহারুল হক খান বরাবর লিজ দেওয়া হয়েছে। বৈধ এই লিজ গ্রহীতার ভোগ-দখলে থাকা অবস্থায় ২২১ নং হোল্ডিংয়ের এই জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে স্থানীয় ভূমিদস্যু শেখ মো. জাবেদ উদ্দিন গং জালিয়াতির মাধ্যমে জয়দেবপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ৪০৩২ নং দলিল তৈরি করেন। এ ভুয়া দলিলে ননী গোপাল বসাকের মৃত্যুর পর তার ছেলে জনৈক তপন কুমার বসাক সম্পত্তির মালিক হন মর্মে আসামি শেখ জাবেদ উদ্দিন গং দাবি করেন।

দলিলের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য জয়দেবপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিস থেকে জব্দকৃত বালাম বই ও টিপসই বইয়ের সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা ও এ বিষয়ে গাজীপুর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম কর্তৃক দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জয়দেবপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের ১৯৬৭ সালের ৩৯ নং বালামের ২৫১ নং থেকে ২৫২ নং পৃষ্ঠায় পরিবর্তন ও বিকৃত করে ৪০৩২ নং দলিল সৃজন করা হয়েছিল। বালামের অন্যান্য পাতার লেখা ও কালির সঙ্গে ২৫১ নং ও ২৫২ নং পাতার অমিল রয়েছে।

আরও পড়ুন

×