বরিশাল
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফিস ঘেঁষে করা হচ্ছে বহুতল মার্কেট
ওবায়দুল্লাহ রনি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:২৪ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:৩১
বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল অফিস ঘেঁষে বহুতল মার্কেট নির্মাণ করছে সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনার সীমানাপ্রাচীরের ২৫ মিটারের মধ্যে যে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছে না বিসিসি। মাত্র ১০ ফুট চওড়া জায়গায় পাঁচতলা ভবন নির্মাণের এ উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই মার্কেট নির্মাণ ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চ আদালতে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। আজ সোমবার এ বিষয়ে আদালতের স্থগিতাদেশ চেয়ে রিট হতে পারে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বরিশাল অফিসটির অবস্থান উত্তর বগুড়া রোড ও দীনবন্ধু সেন রোড-সংলগ্ন এলাকায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই অফিসের উত্তর পাশের ৫০ শতাংশ জমির মালিকানা পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বরিশাল অফিস। উচ্চ আদালতের রায়ের কপিসহ এই জমির মালিকানা বুঝিয়ে দিতে গত ৯ আগস্ট জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়। এই জমির কাছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৯ দশমিক ৯ শতাংশ জমি রয়েছে, যা আনুমানিক ১৪৮ ফুট লম্বা এবং ১০ ফুট প্রশস্ত। এই জমিতে পাঁচতলা ভবন নির্মাণের বিষয়টি গত বুধবার জানাজানি হয়। এটি নির্মাণ না করতে সেখানে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। বিএনপির অনেকেই এতে অংশ নেন। এর পর গত বৃহস্পতিবার ভবন না করতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন সমকালকে বলেন, নিজস্ব জমির ওপর সিটি করপোরেশন কাজ করবে, এটাই নিয়ম। এই নির্মাণের বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত। এখন কেবল বাস্তবায়নে যাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘একটা পক্ষ সুবিধা নেওয়ার জন্য হয়তো এটা আটকানোর চেষ্টা করছে।’ কাজ বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শুরুতে তিনি বলেন, ‘আমি চিঠির বিষয়ে কিছু জানি না।’ কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠানের পাশে এ রকম অবকাঠামো করা যায় কিনা– এমন প্রশ্ন করতেই তাঁর বক্তব্য ঘুরে যায়। তিনি বলেন, ‘মার্কেট আমাদের মূল টার্গেট না। জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা আমাদের মূল লক্ষ্য।’ ভবন করছেন কিনা– এই প্রশ্ন পুনরায় করা হলে তিনি বলেন, ‘ এখন ড্রেনেজের কাজ করছি। পরেরটা পরে দেখব।’ বিএনপির একটি অংশের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বিএনপি বলতে চাই না। তারা ষড়যন্ত্রকারী।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, ১০ ফুটের মতো গভীর করে দিনরাত সেখানে বেজমেন্ট ঢালাইয়ের কাজ চলছে। এর কয়েক মাস আগে গত এপ্রিলে পাঁচতলা ভবন নির্মাণের টেন্ডার নোটিশ দেয় সিটি করপোরেশন। যদিও গতকাল বরিশাল সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেল স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, ‘বগুড়া রোডের বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে তাদের নিজস্ব ৯ দশমিক ৯ শতাংশ জমিতে জলাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। উক্ত কাজের জন্য সিটি করপোরেশন নিয়োজিত ঠিকাদার ড্রেনের সমাপ্তিসহ উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করতে গেলে কতিপয় লোক বাধা সৃষ্টি করেছে।’
এই জায়গায় ‘বরিশাল সিটি সুপারমার্কেট’ নামে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য গত ২৭ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিসিসি। সম্ভাব্য কাজ শুরুর তারিখ উল্লেখ করা হয় ৭ জুলাই। এক বছরের মধ্যে যা শেষ করতে হবে। নোটিশ অনুযায়ী এটি পাঁচতলা ভবন হিসেবে অনুমোদিত। তবে এই টেন্ডারের আওতায় ফাউন্ডেশন, গ্রাউন্ড ফ্লোর, প্রথমতলা এবং দোতলার নির্মাণকাজ করতে হবে। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিলে নির্মাণ হবে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এই চিঠির পরও কাজ এগিয়ে নেওয়ায় উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গতকাল বরিশাল অফিস থেকে প্রধান কার্যালয়ের আইন বিভাগে ‘অধিক গ্রহণের অপেক্ষায় থাকা জমি-সংলগ্ন স্থানে স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ’ চাওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল অফিসের নির্বাহী পরিচালক মফিজুর রহমান খান চৌধুরী সমকালকে বলেন, এখানে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠানই সরকারি। কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান-সংলগ্ন ভবন বা স্থাপনা নির্মাণের সব নিয়ম মেনে সবকিছু হবে– এটাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশা।
- বিষয় :
- বরিশাল