ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

এনবিআরকে চিঠি

এডিআরে কর-সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি চায় সোনালী ব্যাংক

এডিআরে কর-সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি চায় সোনালী ব্যাংক
×
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:০২

দীর্ঘদিন ধরে চলা সোনালী ব্যাংকের কর-সংক্রান্ত মামলাগুলো বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তির অনুরোধ জানিয়েছে ব্যাংকটি। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ অনুরোধ জানায়। পাশাপাশি ব্যাংকের নিজস্ব চারটি ফান্ড পরিচালনার জন্য আলাদা করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা– সে বিষয়ে স্পষ্টীকরণ চেয়েছে সোনালী ব্যাংক।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক এবং এনবিআরের মধ্যে ২০০২ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৯ বছরের আয়কর দাবি ও কর-সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বা আর্থিক উপকরণের বিপরীতে রক্ষিত প্রভিশন বা সঞ্চিতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের ওপর এনবিআরের আয়কর দাবি নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের আইনি বিরোধ চলছে। এনবিআর কর্মকর্তাদের হিসাবে, আয়কর-সংক্রান্ত মামলায় সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার কর এক দশকের বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত রয়েছে।

চিঠিতে সোনালী ব্যাংক বলেছে, ২০০২ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এনবিআরের অধীন বৃহৎ করদাতা ইউনিটে (এলটিইউ) ব্যাংকটি নিয়মিত করদাতা হিসেবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করে আসছে। তবে এলটিইউর মূল্যায়নে ব্যাংকের ওপর বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত আয়কর দাবি আরোপ করা হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু বিষয় হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অর্থমন্ত্রী ও এনবিআর চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধি অনুযায়ী সোনালী ব্যাংককে বাধ্যতামূলকভাবে ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর), স্ট্যাটুটরি লিকুইডিটি রেশিও (এসএলআর) বজায় রাখতে হয় এবং সরকারি ট্রেজারি বিলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে হয়। পাশাপাশি ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি রাখতে হয়। আয়কর আইন, ২০২৩-এর বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী অর্জিত ব্যবসায়িক আয়ের বিপরীতে রক্ষিত এই ঝুঁকি সঞ্চিতি ব্যাংকের মূল ব্যবসায়িক আয় নয়। এটি হিসাব বিজ্ঞানের মেলবন্ধন নীতি অনুযায়ী সম্ভাব্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ। তাই প্রভিশনের ওপর আয়কর আরোপ বা ব্যবসায়িক আয় হিসেবে গণনা করা কতটুকু সংগতিপূর্ণ, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে ব্যাংকটি।

জানা গেছে, সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব চারটি ফান্ড রয়েছে। যেমন– এমপ্লয়িজ পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ডেথ কাম রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট ফান্ড, কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৬৬(২)(ঘ) অনুযায়ী এই তহবিলগুলোর জন্য আলাদা টিআইএন গ্রহণ এবং রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ব্যাংকটির মতে, মূল প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইতোমধ্যে তারা এলটিইউর নিবন্ধিত করদাতা। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের জন্য আলাদা টিআইএন নিয়ে পৃথক রিটার্ন জমা দেওয়া কতটা বাধ্যতামূলক, তা পুনর্পরীক্ষা ও স্পষ্টীকরণ দরকার।

এনবিআরের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, বিভিন্ন আপিল ট্রাইব্যুনাল ও আদালতে ৩০ হাজারের বেশি কর-সংক্রান্ত মামলা চলমান। কিছু মামলা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে আছে। এসব মামলায় প্রায় ৯০ হাজার ৮০০ কোটি টাকার রাজস্ব আটকে আছে। এর মধ্যে আয়কর বাবদ ২৫ হাজার কোটি টাকা, শুল্ক বাবদ ২২ হাজার কোটি টাকা এবং ভ্যাট-সংক্রান্ত মামলায় ৪৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। 

এ ব্যাপারে এনবিআরের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, রাজস্ব-সংক্রান্ত অনেক মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। এসব মামলা এডিআরের মাধ্যমে নিষ্পত্তির উপায় খুঁজছে সরকার। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বকেয়া পাওনা এবং আইনি জটিলতায় আটকে থাকা রাজস্ব উদ্ধারসহ বিভিন্ন পথ খোঁজা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×