ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শীতে সজীব ঠোঁট

শীতে সজীব ঠোঁট
×

শীতে ঠােঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখতে নিয়মিত যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। মডেল: আফসানা চৌধুরী শিফা; মেকওভার: রেড বিউটি স্যালন। ছবি: ফয়সাল সিদ্দিক কাব্য

রিক্তা রিচি

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৪৩ | আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | ১৩:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

শীতে মানুষ পানি কম পান করে। এ কারণে ঠোঁটের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। বাতাসে আর্দ্রতা কমতে শুরু করে। এ শুষ্কতার কারণে ঠোঁট টান টান হয়। এ সময় ঠোঁট ফাটা শুরু করে। এর পেছনে কারণ দুটি। একটি হলো ভেতরের পানিশূন্যতা, অন্যটি হলো বাইরের পানিশূন্যতা। 

হালকা শীতল হাওয়া বইছে। ঠোঁটে পড়ছে এর স্পষ্ট প্রভাব। এখন থেকেই নিতে হবে বিশেষ যত্ন। নয়তো এ শীতে ফাটা ঠোঁট আপনাকে বেশ ভোগাবে। নির্জীব তো হবেই, সেই সঙ্গে রক্ত ঝরবে। এতে চেহারায় বিবর্ণ ভাব ফুটে ওঠবে।
রেড বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন জানান, শীতকালে ঠোঁট ফাটার পেছনের প্রধান কারণ হলো হাইড্রেটিংয়ের অভাব। শীতে মানুষ পানি কম পান করে। এ কারণে ঠোঁটের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। বাতাসে আর্দ্রতা কমতে শুরু করে। 
এ শুষ্কতার কারণে ঠোঁট টানটান হয়। এ সময় ঠোঁট ফাটা শুরু করে। এর পেছনে কারণ দুটি। একটি হলো ভেতরের পানিশূন্যতা, অন্যটি হলো বাইরের পানিশূন্যতা। এ দুটো মিলেই ঠোঁটের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। 

এ ছাড়া একটু পরপর জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভেজানো, ভিটামিনের ঘাটতি, বিশেষ করে ভিটামিন বি২ (রাইবোফ্লাভিন) এবং বি ভিটামিনগুলোর ঘাটতি থাকলে, তীব্র ঠান্ডা বাতাসে বের হলে ঠোঁট শুকিয়ে ফাটার প্রবণতা বেড়ে যায়। থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে কারও কারও ঠোঁট ফাটে। কিছু লিপস্টিক, টুথপেস্ট বা স্কিনকেয়ার পণ্যের রাসায়নিকের কারণে অ্যালার্জি হয়েও ঠোঁট ফেটে যেতে পারে। আবার ময়েশ্চারাইজার বা লিপবাম ব্যবহার না করলেও ঠোঁট সহজেই শুষ্ক হয়ে যায়। 
তাহলে উপায়?

আফরোজা পারভীন জানান, ঠোঁটের যত্নে প্রচুর তরল খাবার খেতে হবে। সেইসঙ্গে ময়েশ্চারাইজিং পণ্য যেমন লিপবাম, পেট্রোলিয়াম জেলি, ঠোঁটের ক্রিম ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। বাজারের কেনা লিপ স্ক্রাবার দিয়ে ঠোঁট স্ক্রাব করা যেতে পারে। আবার ঘরেই লিপ স্ক্রাবার বানাতে পারেন। নারকেল তেলের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে ঠোঁট স্ক্রাব করতে পারেন। এরপর লিপবাম লাগালে ঠোঁট সতেজ থাকে। 

ঘরোয়া প্যাকেই দূর করুন ঠোঁটের কালচে ভাব
শীতে অনেকের ঠোঁট কালো হয়ে যায়। কারও কারও ঠোঁটের চারপাশও কালচে হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে যত্ন নিতে হবে। গোলাপির পাপড়ি থেঁতো করে রসটুকু বের করে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে ঠোঁটে লাগালে কালচে দাগ দূর হবে বলে জানান আফরোজা পারভীন। এ ছাড়া ঘরোয়া উপায়ে ঠোঁটের কালচে ভাব দূর করতে কিছু প্যাক লাগাতে পারেন। 

লেবু ও মধুর প্যাক
আধা চা চামচ লেবুর রসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান। ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। লেবুর প্রাকৃতিক ব্লিচিং গুণ ঠোঁটের কালচে ভাব কমায় আর মধু আর্দ্রতা ধরে রাখে। 

দই ও হলুদের প্যাক
এক চামচ দইয়ের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এতে ঠোঁট সতেজ থাকবে। হলুদে থাকা বিভিন্ন উপাদান  দাগ কমাতে সাহায্য করে এবং দই ঠোঁট সতেজ রাখতে ভূমিকা রাখে। 

গোলাপজল ও বাদাম তেলের মিশ্রণ 
৩-৪ ফোঁটা গোলাপজলের সঙ্গে আধা চা চামচ বাদাম তেল মিশিয়ে নিন। এটি ঠোঁটে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রাখুন। চাইলে সারারাত রাখতে পারেন। গোলাপজল ঠোঁটকে কোমল রাখে। বাদাম তেল রং হালকা করতে সাহায্য করে। 

কয়েক ফোঁটা বিটরুটের রস
শীতের দারুণ সবজি বিটরুট। রাতে ঘুমানোর আগে কয়েক ফোঁটা বিটরুটের রস ঠোঁটে লাগান। সারারাত রেখে দিন। এতে প্রাকৃতিকভাবেই ঠোঁটে গোলাপি আভা যোগ হবে। 

অ্যালোভেরা জেল 
এক চামচ অ্যালোভেরা জেল ঠোঁটে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। অ্যালোভেরা ঠোঁটকে হাইড্রেট করে, একইসঙ্গে ঠোঁটের কালচে ভাব দূর করতেও ভূমিকা রাখে। 
রান্নাঘরের উপাদানে তৈরি করুন স্ক্রাবার  

চিনি ও অলিভ অয়েলের স্ক্রাব 
এক চামচ চিনির সঙ্গে আধা চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে ঠোঁটে ম্যাসাজ করুন।  আলতো করে ১-২ মিনিট স্ক্রাব করার পর পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এটি জমে থাকা মৃত কোষ দূর করে ঠোঁটকে উজ্জ্বল ও নরম করবে।  

কফির গুঁড়া ও অলিভ অয়েল 
এক টেবিল চামচ কফির গুঁড়ার সঙ্গে এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। পানি দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে, কফি গুঁড়ার মিশ্রণ দিয়ে ২-৩ মিনিট আলতো করে ম্যাসাজ করুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ বার স্ক্রাব করলে ঠোঁট ফাটার সমস্যা দূর হবে।

ওটস ও কাঠবাদামের গুঁড়া  
এক টেবিল চামচ ওটস গুঁড়ার সঙ্গে এক টেবিল চামচ কাঠবাদামের গুঁড়া, দুই টেবিল চামচ দুধ এবং কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়েও স্ক্রাব করতে পারেন। আলতোভাবে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ২-৩ মিনিট স্ক্রাব করলে ঠোঁটের কালচে দাগ ও রুক্ষতা দূর হবে। প্রতিবার স্ক্রাব করার পর ঠোঁটে লিপবাম ও মানসম্পন্ন ঠোঁটের ক্রিম ব্যবহার করুন। 

প্রসাধনী কেনার আগে জেনে নিন 

ঠোঁটের বাম কিংবা ক্রিম ঘরে বানাতে পারেন, আবার বাজার থেকেও কিনতে পারেন। ভালো লিপ বাম ঠোঁট সতেজ ও কোমল রাখে। বাজার থেকে এ ধরনের ক্রিম কেনার আগে কিছু বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখুন। মোম, নারকেল তেল ও শিয়া বাটারের মতো হাইড্রেটিং উপাদানসমৃদ্ধ লিপ বাম বেছে নিন। এ উপাদানসমৃদ্ধ ক্রিম ও লিপবাম ঠোঁটকে দীর্ঘসময় সতেজ রাখে। শুষ্কতা বা ঠোঁট ফাটার সমস্যা কমাতেও ভূমিকা রাখে। 

লিপ বামে এসপিএফ আছে কিনা তা দেখে নিন। এসপিএফ ইউভি রশ্মি থেকে রক্ষা করবে এবং অকাল বার্ধক্য রোধ করতে সাহায্য করবে। 
বার বার ঠোঁটে লিপ বাম লাগানোর ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘ সময় ঠোঁটকে সুরক্ষিত রাখবে এমন লিপবাম ও লিপ ক্রিম কিনুন। এ ধরনের ক্রিম ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখবে। 

ত্বকের জ্বালা বাড়াতে পারে, অ্যালার্জি ও হরমোনের ভারসাম্যের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এমন রাসায়নিকমুক্ত লিপ বাম বেছে নিন। লিপ বামে যেন প্যারাবেন না থাকে তা দেখে নিন। 

যদি ঠোঁটে হালকা রং যোগ করতে চান, তাহলে টিন্টেড লিপ বাম বেছে নিতে পারেন। টিন্টেড লিপ বাম রঙের আভা দেয়, পাশাপাশি ময়েশ্চারাইজও করে। 
ফেনল, মেন্থল, স্যালিসিলিক এসিডযুক্ত লিপ বাম ঠোঁটকে শুষ্ক করতে পারে। এ উপাদানসমৃদ্ধ লিপবাম কেনা থেকে বিরত থাকুন। 
ঠোঁটের যেকোনো ক্রিম কেনার আগে সবসময় পণ্যের মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নিন। মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো প্রসাধনীই ব্যবহার করা উচিত নয়।
যদি লিপ বামের গন্ধ অস্বাভাবিক লাগে, এর গঠন দানাদার ও বেশি তৈলাক্ত মনে হয়, তবে সেটি ব্যবহার না করাই ভালো।

আরও পড়ুন

×