ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বইমেলা ২০২৬

শিশুপ্রহরে মুখর মেলা

শিশুপ্রহরে মুখর মেলা
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

অমর একুশে বইমেলার দ্বিতীয় সপ্তাহের শিশুপ্রহর যেন গতকাল শুক্রবার এক বর্ণিল উৎসবে পরিণত হয়েছিল। এ দিন সাপ্তাহিক ছুটিতে মেলার দ্বার খোলে বেলা ১১টায়। তখন থেকেই মেলা প্রাঙ্গণের শিশু কর্নারে ছিল শিশু ও অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিড় আরও বাড়ে। রঙিন পোশাকের খুদে পাঠকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে প্রতিটি স্টল। অভিভাবকের হাত ধরে আসা শিশুরা কেউ হাত বাড়িয়ে দেখছে বইয়ের পাতা, আবার কেউবা পাজেল ও রঙিন পেন্সিল নিয়ে মেতে উঠেছিল নিজস্ব খেলায়। শিশুদের আনন্দে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছিল পাপেট ও পুতুলনাট্য। 

মেলার শিশুকর্নারে স্টলগুলো ঘুরে দেখা যায়, বইয়ের পাশাপাশি নানা ধরনের শিক্ষামূলক উপকরণ সাজিয়ে রাখা হয়েছে। শিশুরা তাদের পছন্দের বই কেনার বায়না ধরছে অভিভাবকদের কাছে। তবে অভিভাবকদের মধ্যেও দেখা গেছে সচেতনতা। শুধু গল্প নয়, শিশুদের শেখা ও মানসিক বিকাশে সহায়ক বই এবং খেলাধুলাভিত্তিক উপকরণও তারা কিনছেন।

খুশবু প্রকাশনীর স্টলে গিয়ে দেখা যায় একদিকে সাজানো বই, অন্যদিকে পাজেল, রঙিন পেন্সিল ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক খেলনা। বিক্রয় প্রতিনিধি মার্জিয়া তুবা বলেন, বাচ্চারা বই কিনতে এসে এগুলো দেখে খুব আগ্রহ পায়। অনেক সময় বইয়ের সঙ্গে পাজেল বা রঙিন পেন্সিলও নিতে চায়।

তবে বইয়ের প্রতিও শিশুদের আগ্রহ কম নয় বলে জানান বাবুই প্রকাশের স্বত্বাধিকারী কাদের বাবু। তিনি বলেন, আজ গত কয়েক দিনের তুলনায় মেলায় লোকসমাগম বেশি। বিক্রি খুব একটা বাড়েনি। তবে ভালো দিক হলো, শিশুরা আসছে, বই দেখছে। 

বিভিন্ন স্টলের প্রতিনিধিরা জানান, শিশুদের আগ্রহের তালিকায় এগিয়ে রয়েছে রঙিন ছবিসমৃদ্ধ গল্পের বই। শিশুর পড়া প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী অনামিকা জানান, আরব্য রজনী, ইংরেজি সিরিজের অনুবাদ বই ও  কার্টুনভিত্তিক গল্পের বইগুলোর প্রতি শিশুদের আগ্রহ বেশি। এসব বইয়ে পাতাজুড়ে রঙিন ইলাস্ট্রেশন থাকে, তাই ওরা খুব পছন্দ করে। পাশেই পুতুলনাট্যের আয়োজন থাকায় শিশুদের ভিড়ও বেশি হচ্ছে।
শিশুদের বইয়ের জগতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে অ্যাক্টিভিটি বুক। ময়ূরপঙ্খি প্রকাশনী এবারের মেলায় এনেছে নানা ধরনের অ্যাক্টিভিটি বই। যেখানে গল্প পড়ার পাশাপাশি ছবিতে রং করা, আঁকিবুকি করা বা ছোট ছোট কাজের সুযোগ রয়েছে। কিডস ক্যারাভানের স্টলে ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে পাঁচ-ছয় বছর বয়সীদের জন্যও বিভিন্ন ধরনের অ্যাক্টিভিটি বই রয়েছে। স্টলের ম্যানেজার তোয়া ইসলাম বলেন, ছোট শিশুদের চেয়ে একটু বড়দের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। 

এদিকে গুফি স্টলে দেখা যায় শিশুদের সবচেয়ে বেশি ভিড়। পাপেট, বর্ণমালা কার্ড, শিক্ষামূলক লুডু, ক্যালেন্ডার ও ছবি আঁকার নানা সরঞ্জাম সাজানো রয়েছে সেখানে। 
মিরপুর থেকে দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে মেলায় আসা অভিভাবক রাশেদ মাহমুদ বলেন, শিশুরা শুধু গল্প শুনে নয়, হাতে-কলমে কিছু করতে পারলে শেখাটা দ্রুত হয়। তাই বইয়ের সঙ্গে অ্যাক্টিভিটি বইও কিনছি।
শিশুরাও বইমেলায় এসে উচ্ছ্বসিত। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিবা হাসান বলে, আমি রং করার বই আর একটা গল্পের বই কিনেছি। গ্রামের বাড়িতে গিয়ে এটায় রং করব। 

মূলমঞ্চের আয়োজন ও নতুন বই
গতকাল মেলায় নতুন বই জমা পড়ে ১৯৯টি। সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমির সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সভাগৃহে অনুষ্ঠিত হয় অমর একুশে শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। বিকেল ৩টায় মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘জন্মশতবর্ষ: কলিম শরাফী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। সেখানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অণিমা রায়। আলোচনায় অংশ নেন সাইম রানা। সভাপতিত্ব করেন সাধন ঘোষ।
লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন মৃদুল মাহবুব ও এহসান মাহমুদ। বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন শাহীন রেজা। 

আজকের আয়োজন 
আজ শনিবারও মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে শিশুপ্রহর। একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘জন্মশতবর্ষ: নূরজাহান বেগম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইসরাইল খান।

আরও পড়ুন

×