ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বইমেলা ২০২৬

নান্দনিক স্টলে মেলা প্রাঙ্গণে নতুন রূপ

নান্দনিক স্টলে মেলা প্রাঙ্গণে নতুন রূপ
×

 দ্রোহী তারা

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

অমর একুশে বইমেলায় এবার বড় কোনো প্যাভিলিয়ন না থাকলেও নান্দনিক স্টল সজ্জার কারণে মেলা প্রাঙ্গণ পেয়েছে নতুন রূপ। বিশাল কাঠামোর অনুপস্থিতি সত্ত্বেও প্রকাশনীগুলো তাদের স্বকীয়তা ফুটিয়ে তুলতে আশ্রয় নিয়েছে সৃজনশীল নকশা, রং ও প্রতীকের। ফলে স্টলগুলো কেবল বই বিক্রির কেন্দ্র হয়ে থাকেনি, বরং হয়ে উঠেছে ছোট ছোট একেকটি শৈল্পিক প্রদর্শনী। রহস্যধর্মী অন্ধকার আমেজ থেকে শুরু করে আতিয়া মসজিদের ঐতিহাসিক আদল কিংবা প্রতিবাদী আবহে গড়া স্টলগুলো পাঠকদের মনোযোগ কেড়েছে। প্যাভিলিয়নহীন এবারের মেলা যেন নকশার বৈচিত্র্যে পাঠকের কাছে হয়ে উঠেছে এক জীবন্ত আর্ট গ্যালারি, যেখানে প্রতিটি স্টলই বলছে নিজস্ব এক গল্প।

এবার মেলায় বেশি আলোচিত হয়েছে ছোট্ট কিন্তু ব্যতিক্রমী স্টল ‘কালো’। নামের মতোই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটি পুরো স্টলটি তৈরি করেছে কালো রঙের আবহে। স্টলে থাকা বিক্রয় প্রতিনিধি কবিতা আক্তার জানান, তাদের প্রকাশিত বইগুলো রহস্য, গোয়েন্দা ও রোমাঞ্চধর্মী। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে স্টলের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

অন্যদিকে বেঙ্গলবুকসের হলদে রঙের স্টলে রয়েছে করপোরেট আবহের ছোঁয়া। স্টলের ভেতরে ঢুকে পাঠকরা ঘুরে ঘুরে বই দেখছেন, কিনছেন; কেউ কেউ আবার ছবি তুলছেন। দর্শনার্থী কাজল হাসান বলেন, এই স্টলে আমি চার-পাঁচবার এসেছি। ভেতরে ঢুকলেই আলাদা একটা পরিবেশ মনে হয়। ভালো লাগে, তাই বারবার আসি।

ছাপাখানা প্রকাশনীর স্টলেও নজর কাড়ছে শিল্প সৌন্দর্য। স্টলের দেয়ালে বাংলাদেশের পতাকা, মুক্তিযুদ্ধ এবং একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে বিভিন্ন চিত্র এঁকেছেন শিল্পী মাইশা মোবাশ্বেরা। তিনি বলেন, স্টলটা কয়েক দিনের জন্য হলেও আমাদেরই জায়গা। তাই প্রকাশনীর ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো দিয়েই সাজিয়েছি।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের স্টলও বরাবরের মতো আলাদা করে চোখে পড়ে। তালিকা ধরে বই কিনতে আসা পাঠক তামজীদ আহমেদ বলেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের স্টল আমাকে কখনও খুঁজতে হয় না। দূর থেকেই বিশাল বইয়ের কাটআউট আর ‘আলোকিত মানুষ চাই’ লেখা চোখে পড়ে। এটা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

গ্রন্থরাজ্য প্রকাশনীর স্টলের বাইরেও দেখা গেছে ব্যতিক্রমী আয়োজন। প্রচলিত পোস্টারের বদলে সেখানে বইগুলো হ্যাঙারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে স্টলের ওপর বিশাল কাটআউটে।
এবারের মেলায় প্রতিবাদী ভাবনায়ও তৈরি হয়েছে দুটি স্টল। উদীচী ও বিদ্যানন্দ প্রকাশনী তাদের স্টলের মাধ্যমে সাম্প্রতিক সাংস্কৃতিক হামলা এবং প্রকাশনা জগতের বর্তমান সংকট তুলে ধরেছে।
মেলায় বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের স্টলটি। ষোড়শ শতকে নির্মিত টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক আতিয়া মসজিদের আদলে তৈরি করা হয়েছে এটি। স্টলটির নকশা করেছেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহকারী মডেলার শামীমা হক। তিনি বলেন, আমরা মূলত আতিয়া মসজিদের একটি প্রতিরূপ তৈরি করেছি। প্রতি বছরই আমাদের চেষ্টা থাকে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার। এবার নতুন প্রজন্মকে এই মসজিদ সম্পর্কে জানাতেই এমন উদ্যোগ।

বাতিঘরের স্টলে গাঢ় কমলা রঙের মাঝে কালো কালিতে আঁকা নকশাটির বিষয়ে স্বত্বাধিকারী দীপঙ্কর দাশ বলেন, প্রতি বছরই ভিন্ন থিমে স্টল নির্মাণ করা হয়। তবে এবারের মেলার তারিখ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে পরিকল্পনার সময় কম ছিল। তাই ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে থাকা বাতিঘরের শাখাগুলোর নকশাকে মূল ভাবনা ধরে স্টল তৈরি করা হয়েছে। বরাবরের মতোই স্টলের নকশা করেছেন শিল্পী শাহীনুর রহমান।

মূলমঞ্চের আয়োজন ও নতুন বই
গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ১৬৩টি। বিকেল ৩টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘শহীদুল্লা কায়সার’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিবলী আজাদ। আলোচনায় অংশ নেন প্রশান্ত মৃধা। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন অনুবাদক ফয়েজ আলম এবং জাভেদ হুসেন। বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল কবিতা পাঠ ও গান। 

আজকের আয়োজন
আজ বিকেল ৩টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ: সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। 

আরও পড়ুন

×