ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বইমেলা ২০২৬

চাহিদা আছে, তবু কম ভ্রমণবিষয়ক বই

চাহিদা আছে, তবু কম ভ্রমণবিষয়ক বই
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৪৪ | আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ | ১২:২৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ নতুন ভ্রমণ বইয়ের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও পাঠকদের আগ্রহে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। মেলার স্টলগুলোতে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎই চোখে পড়ছে তাজিকিস্তানের পামির মালভূমি, মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন শহর কিংবা সুন্দরবনের গহীন অরণ্যের গল্প। ভ্রমণপিপাসু পাঠকরা বইয়ের পাতায় ভর করেই যেন পৌঁছে যাচ্ছেন অন্য এক ভূগোলে। পাঠকদের মতে, ভ্রমণগদ্য কেবল বিনোদন নয় বরং অচেনা পৃথিবীর সংস্কৃতি ও ইতিহাস জানার এক শক্তিশালী মাধ্যম। সীমিত সংখ্যা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট একদল পাঠকের বিশেষ চাহিদাই এবারের মেলায় ভ্রমণসাহিত্যকে দিয়েছে এক অনন্য মাত্রা।

জানা গেছে, এবারের মেলায় গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ভ্রমণবিষয়ক বই এসেছে ২৭টি। বাতিঘর, অনুপ্রাণন, জাগৃতিসহ প্রসিদ্ধ প্রকাশনীগুলো মঈনুস সুলতান, এলিজা বিনতে এলাহী এবং সৈয়দ শাফাত উদ্দিন আহমেদের মতো লেখকদের নতুন বই নিয়ে এলেও অনেক স্টলে এখনও পুরোনো বইয়েরই জয়জয়কার। তথ্যমতে, মেলায় গতকাল পর্যন্ত আসা নতুন ২৭টি ভ্রমণ বইয়ের মধ্যে তুরস্ক, জাপান এবং ইউরোপের রোমাঞ্চকর কাহিনিগুলো পাঠকদের বেশ টানছে। এ বছর বাতিঘর প্রকাশনী এনেছে নন্দিত ভ্রমণগদ্য লেখক মঈনুস সুলতানের ‘ককস্পার দ্বীপের কেল্লা ও জলদস্যুদের জাহাজ’। সমুদ্রপথের ইতিহাস, দ্বীপাঞ্চলের রহস্যময়তা ও অভিযানের রোমাঞ্চ এই বইটিতে ফুটে উঠেছে। 

চন্দ্রবিন্দু প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী নওশীন বলেন, ভ্রমণগদ্যের জন্য আলাদা পাঠক আছেন, যারা মেলায় এসে সরাসরি এই বইগুলোই খোঁজেন। মেলা শুরুর পর থেকেই আমাদের ভ্রমণের বই বিক্রি হচ্ছে। গত শুক্র ও শনিবার বেশ ভালো বিক্রি হয়েছে। বিশেষ করে বাহার লেলিনের লেখা ‘নতুন চীনের অচিন পথে’ বইটি পাঠকরা নিচ্ছেন।

এদিকে তাজিকিস্তানের প্রাচীন ইতিহাস, পামির মালভূমির আদিম প্রকৃতি, রেশমপথে বণিকদের যাত্রা এবং মধ্য এশিয়ার মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির গল্প উঠে এসেছে এলিজা বিনতে এলাহীর লেখা ‘রোড টু পামির’ বইটিতে। এটি প্রকাশ করেছে অনুপ্রাণন প্রকাশন। 

জাগৃতি প্রকাশনী এবার এনেছে সুন্দরবন ঘিরে এক ভিন্নধর্মী ভ্রমণগদ্য। ‘তমাল তরুর সুন্দরবন’ শিরোনামের বইটিতে পরিবেশ সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণীর সঙ্গে মানুষের দ্বন্দ্ব, বনাঞ্চলে সংঘটিত নানা অপরাধ, বনজ মিথ এবং সেখানকার মানুষের জীবনযাপনের গল্প তুলে ধরেছেন সৈয়দ শাফাত উদ্দিন আহমেদ। 

কিছু প্রকাশনী আবার নতুন কোনো ভ্রমণবই আনেনি। যেমন স্টুডেন্ট ওয়েজ প্রকাশনী। তবে তাদের আগের প্রকাশিত ভ্রমণবিষয়ক বইগুলোর চাহিদা এখনও রয়েছে বলে জানান বিক্রয়কর্মী মো. সালাহ উদ্দিন। 

আগামী প্রকাশনী প্রকাশ করেছে সামসাদ ফেরদৌসীর ‘তুরস্কের পথে পথে’ এবং আবদুল লতিফের ‘ইউরোপের দেশে দেশে’। ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত হয়েছে আনোয়ার হোসেইন মঞ্জুর ভ্রমণভিত্তিক বই ‘ও আকাশ ও বিহঙ্গ’। পাঞ্জেরী প্রকাশনী এনেছে লোপামুদ্রা মালেকের ‘শান্তা দেবীর জাপান’। এরকম আরও কয়েকটি প্রকাশনী অল্পসংখ্যক ভ্রমণবিষয়ক বই প্রকাশ করেছে। 

মেলার ১৩তম দিনে হাজার ছাড়াল বই সংখ্যা
সাধারণত বইমেলার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই নতুন বই প্রকাশের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু এবার পরিবর্তিত সময়ে ১৩তম দিনে এসে মোট নতুন বইয়ের সংখ্যা গতকাল পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ১১৪২টি। গতকাল বইমেলার তথ্যকেন্দ্রের তথ্য বলছে, গতকাল পর্যন্ত মেলায় গল্প ১৫৭টি, উপন্যাস ১৮০টি, প্রবন্ধ ৩৮টি, কবিতা ৪২৩টি, গবেষণা ৩৩টি, ছড়া ২১টি, শিশুতোষ ৫৫টি, জীবনী ৩৬টি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ১টি, নাটক ৫টি, বিজ্ঞান ১৭টি, ভ্রমণবিষয়ক ২৭টি, ইতিহাসবিষয়ক ১৪টি, রাজনীতিবিষয়ক ১৩টি, চিকিৎসা/স্বাস্থ্য ৬টি, ভাষা নিয়ে ২টি, ধর্মীয় বিষয়ে ১৪টি, অনুবাদ ১০টি, অভিধান ১টি, সায়েন্স ফিকশন/গোয়েন্দা ১টি, অন্যান্য ৮৮টি বই এসেছে। এর মধ্যে রচনাবলি ও গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক নতুন কোনো বই প্রকাশ হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। 

মূলমঞ্চের আয়োজন ও নতুন বই
গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ১৪৬টি। বিকেল ৩টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ: সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহমাদ মোস্তফা কামাল। আলোচনায় অংশ নেন হরিশংকর জলদাস। সভাপতিত্ব করেন খালিকুজ্জামান ইলিয়াস।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন গবেষক ইসরাইল খান এবং কবি মুহাম্মদ আবদুল বাতেন। বিকেলে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আজ বিকেল ৩টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ: এম শমশের আলী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। 

আরও পড়ুন

×