ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অভিমত

ব্যাংকঋণ নির্ভরতায় বেসরকারি খাত বাধাগ্রস্ত হবে

ব্যাংকঋণ নির্ভরতায় বেসরকারি খাত বাধাগ্রস্ত হবে
×

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৪ | ০১:০৪ | আপডেট: ০৭ জুন ২০২৪ | ০৭:৩১

বিশেষ সময়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে এবারের বাজেট দেওয়া হয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য বর্তমানে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে– মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বিনিময় হার এবং জ্বালানি। এসব ক্ষেত্রে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। আবার ঘাটতি বাজেটের পুরোটাই আসবে ব্যাংক ও বৈদেশিক উৎস থেকে।

এমনিতেই ব্যাংকের অবস্থা খারাপ। আস্থাহীনতাসহ বিভিন্ন কারণে আমানতকারীদের অনেকে ব্যাংকে টাকা রাখছে না। আবার ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহার অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এ রকম অবস্থায় সরকারের ব্যাংক ঋণের নির্ভরতা বেসরকারি খাতকে বাধাগ্রস্ত করবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ঋণ পাবে না। ঘাটতি না রেখে এ সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ব্যয় অর্ধেক করা দরকার ছিল।

সার্বিকভাবে আর্থিক খাতের জন্য এ সময়ে কিছু শক্ত সিদ্ধান্ত দরকার ছিল। ব্যাংক খাতের সংস্কার জরুরি। অপ্রিয় কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে লোকজন খুশি হতো। মানুষের আস্থা বাড়ত। তবে কোনো সংস্কারের উদ্যোগ নেই, শক্ত ব্যবস্থার কথা নেই। অর্থমন্ত্রী সুখ, সমৃদ্ধির কথা বলেছেন। লোকজন তাতে সুখী আর সমৃদ্ধ হতো। প্রকৃত বিনিয়োগ আসত।
পুঁজিবাজার উন্নয়নে কিছু করা হয়নি। উল্টো প্রথমবারের মতো ব্যক্তি পর্যায়ে মূলধনি মুনাফার ওপর কর আরোপ করা হয়েছে।

বাজেটে কিছু কর ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। তবে এতে মূল্যস্ফীতি কমবে না। কেননা আয় হোক বা না হোক, ব্যয় তো ঠিকই হবে। বিশেষ করে প্রশাসনিকসহ নানা ব্যয় তো কমবে না। অর্থমন্ত্রী এ বাজেটকে সুখী, সমৃদ্ধ, বিনিয়োগ বিনির্মাণের বাজেট বলেছেন। তবে মানুষকে সুখী, সমৃদ্ধ করার জন্য মূল্যস্ফীতি কমানোর সুনির্দিষ্ট কোনো কার্যক্রম এতে নেই।

বাজেটে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। শুধু বলা হয়েছে বিনিয়োগ বিনির্মাণ। এর মানে বাইরে থেকে বিনিয়োগ আসবে। বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে কীভাবে। কেননা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মদক্ষতা কম। দুর্নীতির কারণে ঘাটে ঘাটে ঝামেলা পোহাতে হয়। সুশাসন নেই। তাহলে বহুজাতিক একটি কোম্পানি কেন আসবে? আবার এলেও (ডলার সংকটের কারণে) মুনাফা নিতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক নানাভাবে ঘোরাচ্ছে। এটাতো ভালো কোনো সমাধান না।

কর্মসংস্থানে সবচেয়ে ভালো ভূমিকা রাখে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত। এখন এ খাত ঋণ না পেলে কর্মসংস্থান হবে কী করে? আর ব্যবসা-বাণিজ্য না হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর আদায় করবে কীভাবে? ব্যবসা করতে না পারলে মানুষ কর, ভ্যাট দেবে কোত্থেকে। এর মানে মূল্যস্ফীতি কমবে না, আবার কর্মসংস্থানও বাড়বে না।

তৃতীয়ত, জ্বালানির দর বাড়ানো-কমানো হচ্ছে। গত ১০ বছরে জ্বালানি অনুসন্ধানে কিছু না করে কেবল দর বাড়ানো হচ্ছে। সামনে জ্বালানি সরবরাহের জন্য যে তেল আনা হবে, তার ডলার কোথায়? আবার ঘাটতি বাজেটে বিশাল একটা এডিপি করা হয়েছে। এই সময়ে ১ হাজার ২৮৫টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এমনিতেই ঠিকভাবে চলছে না, এর মধ্যে কেন এত প্রকল্প নিতে হবে? এডিপি অর্ধেক করে দিলেই দেখা যাবে ঘাটতি অর্থায়ন কমে যাবে। উচ্চ সুদে দেশি-বিদেশি ঋণ নেওয়া লাগবে না।

মূল বিষয় হলো খরচ কমাতে হবে। ব্যয় সাশ্রয়ী হন, অপচয় কমবে। প্রকল্প নেওয়া যেত কেবল ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়, যেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের জন্য সহায়ক হয়। সার্বিকভাবে একটা সাদামাটা বাজেট দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এটা প্রত্যাশা করিনি।

আরও পড়ুন

×