ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চুয়েট

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী উৎসব

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী উৎসব
×

সৃজনশীল ও প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল এই আয়োজন

মো. ফাহিম রেজা

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৫ | ০০:৪১

 চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) যেন রূপ নিয়েছিল এক প্রযুক্তি যুদ্ধের মঞ্চে। কেউ ব্যস্ত কোডিংয়ে, কেউবা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে গভীর চিন্তায় ডুবে। একের পর এক জটিল সমস্যার সমাধানে গবেষণারত তরুণ উদ্ভাবকরা যেন সময়কে হার মানিয়ে দেখাচ্ছেন নিজেদের দক্ষতা। এমনই এক চিত্র দেখা গেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকাট্রনিক্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রকৌশল (এমআইই) বিভাগের আয়োজিত  ‘এমআইই ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেক কার্নিভাল ২০২৫’-এর মঞ্চে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের মূল ভেন্যু ছিল চুয়েটের আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর ভবন। মেকাট্রনিক্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমআইই) বিভাগের উদ্যোগে এবং সাউদার্ন আইওটি লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে আয়োজন করা হয় ‘এমআইই ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেক কার্নিভাল’। টেকাথন, শিল্প-সেমিনার, ক্যারিয়ার সংযুক্তি এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা– সব মিলিয়ে চুয়েটে এই অনুষ্ঠান পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত ও সৃজনশীল উৎসবে। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকাথন’– যেখানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৭টি দল অংশ নেয়। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমন্বয়ে বাস্তবভিত্তিক সাতটি জটিল সমস্যা সমাধানে প্রতিযোগিতা করে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে। উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তির পরীক্ষা দিতে দিতে তারা একে অপরের সঙ্গে নয়, বরং সময় ও সমস্যার সঙ্গেই যুদ্ধ করছিল।
চুয়েটের এমআইই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অঙ্কন দে অনিমেষ বলেন, ‘এখানে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের যুগল সমন্বয়ে বাস্তবসম্মত সমস্যার সমাধান করতে হচ্ছে, যা আমাদের অনেক কিছু শিখতে সাহায্য করছে। দেশে এ ধরনের আয়োজন আরও হওয়া উচিত।’
প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় টিম হাইপার থ্রেড, প্রথম রানার্সআপ টিম এনএসডব্লিউ এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় রানার্সআপ হয় যথাক্রমে সিন্টেক্স ইরর ও মেভেরিক্স। প্রথম দিনের বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় ‘ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ ফর গার্মেন্টস’ শীর্ষক একটি সেমিনার। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ড. সুদীপ কুমার পাল এবং কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন সাউদার্ন আইওটি লিমিটেডের সিটিও মো. আরিফুল ইসলাম। আলোচনায় শিল্প-প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ, গার্মেন্ট শিল্পে অটোমেশন এবং ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ বাস্তবায়নের পথ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশেষ চাকরি সংযুক্তিমূলক কার্যক্রম। এতে চুয়েটের মেকাট্রনিক্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রকৌশল, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, যন্ত্রকৌশল ও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের স্নাতক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি চাকরিতে যোগদানের ভাইভা নেন সাউদার্ন আইওটি লিমিটেডের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক, চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান বলেন, ‘দেড় মাস আগেই আমরা এমআইই রেভল্যুশন করেছি। এত অল্প সময়ে আরেকটি জাতীয় পর্যায়ের আয়োজন করা সহজ ছিল না। কিন্তু আমাদের টিম তা করে দেখিয়েছে। এতে লাখ টাকার পুরস্কারও ছিল। এমন আয়োজনের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত।’ দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে ছিল প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান, শিল্পভিত্তিক সেমিনার, ক্যারিয়ার সংযুক্তিমূলক আয়োজন, পুরস্কার বিতরণ এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। পুরো আয়োজনে ছড়িয়ে ছিল শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তি, সমাধানমুখী চিন্তাভাবনা ও ভবিষ্যতের শিল্প নেতৃত্বের স্বপ্ন। চুয়েটে অনুষ্ঠিত এমআইই ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেক কার্নিভাল ২০২৫ নিঃসন্দেহে দেশের প্রযুক্তি শিক্ষায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পড়াশোনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তারা হয়েছে সমস্যা সমাধানকারী ভবিষ্যৎ নির্মাতা।v
 

আরও পড়ুন

×