বুটেক্স
মেধাবীদের মিলনমেলা
আনন্দে মেতে উঠেছিল পুরোনো বন্ধুরা
তাওকীর তাজাম্মুল
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ১১:১৮ | আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ | ১১:১৮
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ভালো ফলাফল অর্জন অনেকের কাছেই ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প। তবে সেই সাফল্য যখন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়, তখন তা শুধু একজন শিক্ষার্থীকেই নয় বরং অনুপ্রাণিত করে পুরো ক্যাম্পাসকে। ঠিক এমনই এক অনুপ্রেরণামূলক আয়োজনের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)। বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক সাফল্য অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের জন্য সংবর্ধনার নিয়মিত আয়োজন হতে দেখা যায় না। তবে বুটেক্স সাংবাদিক সমিতির (বুটেক্সসাস) উদ্যোগে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ‘কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬’।
বুটেক্সসাসের কার্যক্রম শুধু ক্যাম্পাসভিত্তিক নিউজ করার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটির ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা। তাছাড়া প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করে থাকে সংগঠনটি। এ বছর বুটেক্সের কৃতী শিক্ষার্থীদের জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আরেকটি অনন্য নজির স্থাপন করল বুটেক্সসাস। অনুষ্ঠানে একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭, ৪৮ ও ৪৯তম ব্যাচের প্রতিটি বিভাগ থেকে মোট শীর্ষ ৭০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম ব্যাচ থেকে শীর্ষ ১০ জন এবং ৪৮ ও ৪৯তম ব্যাচ থেকে ৩০ জন করে শিক্ষার্থী সংবর্ধনা গ্রহণ করেন। তবে পুরো আয়োজনটি কেবল পুরস্কার বিতরণেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি হয়ে ওঠে সংগ্রাম, অধ্যবসায়, স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার এক অনন্য মিলনমেলা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। তিনি কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা ও অনুপ্রেরণা তৈরি করবে।
সংবর্ধনার মঞ্চে উঠে আসে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্পও। ৪৭তম ব্যাচের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কৃতী শিক্ষার্থী ওয়াসিমা তাসনিম বলেন, প্রথম বর্ষে তার ফলাফল আশানুরূপ ছিল না। তবে শিক্ষক ও সিনিয়রদের অনুপ্রেরণায় ধীরে ধীরে নিজেকে উন্নত করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘ভালো কিছু করার চেষ্টা ছিল এবং সেটা পেরেছি।’
একই অনুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেন ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাইহান বিন সাজ্জাদ। দর্শক সারিতে বসে থাকা বাবাকে দেখিয়ে তিনি বলেন, তিনি আমার মাথায় হাত রেখে বলেছেন, বাবা আমি তোমার এই অর্জনে অনেক খুশি। আমার মনে হয়, এটা আমার জন্য যথেষ্ট। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষার্থী কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান খান শিক্ষার্থীদের শুধু ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে কেবল একাডেমিক ফল নয়, একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রস্তুতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ও আত্মোন্নয়নের আগ্রহ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে বুটেক্স সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে স্বাধীনতার প্রেরণায় মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা মুক্তির বারতা ৪.০-এর পাঁচ বিজয়ীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। প্রবন্ধ, ছোটগল্প/অনুগল্প, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ বিষয়ক টি-শার্ট ডিজাইন, হামদ-নাত/গজল/সুরা এবং গীতা পাঠ– এই পাঁচ বিভাগে বিজয়ী পাঁচজনের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ ও ৪৯তম ব্যাচের সব বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সনদ এবং ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।
- বিষয় :
- বুটেক্স
