ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

যেসব বিষয় জানা জরুরি

চাকরির জন্য ভাইভা

চাকরির জন্য ভাইভা
×

এম এ মান্নান

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ১১:২১

বেসরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা প্রার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতা যাচাই করে। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি এবং সঠিক মানসিকতা নিয়ে ভাইভার মুখোমুখি হলে সাফল্যের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ভাইভার বিষয়টি একটু ভিন্ন হলেও প্রস্তুতি প্রায় সমানভাবে নিতে হয়।

ভাইভা বোর্ডের সামনে উপস্থিত হওয়ার আগে নিচের বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়া আবশ্যক:
পোশাক ও সাজসজ্জা: মার্জিত, পরিচ্ছন্ন এবং পদের সঙ্গে মানানসই আনুষ্ঠানিক পোশাক পরিধান করুন।
কাগজপত্র: চাকরির আবেদন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতার সনদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় মূল ও ফটোকপি ডকুমেন্ট গুছিয়ে রাখুন।
মানসিক প্রস্তুতি: ভাইভার জন্য নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করুন। আত্মবিশ্বাসী এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রবেশ করুন।

নিজেকে উপস্থাপন করার কৌশল
ভাইভা বোর্ডে প্রায়শই নিজেকে নিয়ে বলার জন্য অনুরোধ করা হয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। যেখানে নিজেকে সংক্ষিপ্ত, কার্যকরভাবে তুলে ধরতে হয়।
শুরুতেই নিজের নাম ও শেষ অর্জিত ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা বলুন। যদি সাম্প্রতিক কাজের অভিজ্ঞতা থাকে, তা উল্লেখ করুন এবং আপনার অর্জিত জ্ঞান বা বিশেষ কোনো যোগ্যতা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরুন, যা এই পদের জন্য প্রাসঙ্গিক।

কেন আপনি এই চাকরি বা পেশাটি বেছে নিতে চান এবং কাজটি সম্পর্কে আপনার ধারণা কী, তা স্পষ্ট করুন। আপনার দক্ষতা কীভাবে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে, তা ব্যাখ্যা করুন। সবশেষে, বর্তমানে আপনি কী করছেন তা উল্লেখ করে, কেন এই চাকরিটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তা বলে উত্তর শেষ করতে পারেন।
যে প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য ভাইভা দিচ্ছেন, সে সম্পর্কে বিশদ ধারণা থাকা অত্যাবশ্যক।

ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ: প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে তাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সাম্প্রতিক অর্জন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।
গুগল ও ডকুমেন্ট: যদি ওয়েবসাইটে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়া যায়, তবে অন্যান্য বিশ্বাসযোগ্য সোর্স– যেমন গুগল সার্চ বা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত নথি তথ্য সংগ্রহ করুন।
পদের দায়িত্ব ও কাজ: আপনি যে পদের জন্য আবেদন করেছেন, সেই পদের দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখুন।

কেন আপনাকে বেছে নেওয়া হবে? 

কেন এই পদের জন্য বেছে নেওয়া হবে?– এমন প্রশ্ন প্রার্থীর আত্মমূল্যায়ন ও পদের প্রতি তার আকাঙ্ক্ষা যাচাই করে। আপনার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং বিশেষ জ্ঞান কীভাবে অন্য প্রার্থীদের থেকে আপনাকে এগিয়ে রাখবে, তা নির্দিষ্ট উদাহরণসহ তুলে ধরুন। 

আপনি প্রতিষ্ঠানের জন্য কী অতিরিক্ত মূল্য বা সুবিধা নিয়ে আসতে পারেন, তা স্পষ্ট করুন। আপনার উত্তর যেন প্রমাণ করে যে আপনি কাজটি এবং প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে যথেষ্ট জানেন এবং এটি আপনার জন্য শুধু একটি চাকরি নয়, বরং একটি লক্ষ্য।

মৌখিক পরীক্ষার বিষয়বস্তু ও প্রস্তুতি

মৌখিক পরীক্ষার নির্দিষ্ট কোনো সিলেবাস না থাকলেও কিছু মৌলিক বিষয়ে ভালো ধারণা থাকা অপরিহার্য:
lদেশে ও দেশের বাইরের সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাগুলো সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকুন।
l বাংলাদেশের সংবিধান, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, সরকারের বিভিন্ন নীতি (যেমন স্বাস্থ্য খাতের পলিসি, তথ্যপ্রযুক্তি), এমডিজি, এসডিজি এবং এতে বাংলাদেশের অর্জন সম্পর্কে ধারণা রাখুন।
 lমুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯৪৭-১৯৭১) সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
একাডেমিক ও পেশাগত জ্ঞান:
lযে পদের জন্য আবেদন করেছেন, সে পদ-সংশ্লিষ্ট কারিগরি বা পেশাগত প্রশ্ন হতে পারে।
lঅনার্স বা স্নাতকোত্তরে  বিষয়বস্তুর মূল ধারণা সম্পর্কে প্রস্তুতি নিন।
নিজের নামের অর্থ, নামের সঙ্গে মিল আছে এমন বিখ্যাত ব্যক্তি, পছন্দের কবি, সাহিত্যিক, গান, খেলাধুলা ইত্যাদি ব্যক্তিগত রুচি ও জ্ঞান সম্পর্কে প্রস্তুতি নিন। আপনার নিজ জেলার আয়তন, জনসংখ্যা, শিক্ষার হার, নামকরণের ইতিহাস, বিখ্যাত স্থান, নদী, বন্দর, ব্যক্তি এবং মুক্তিযুদ্ধে জেলার অবদান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখুন। দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। দেশের বাজেট, জিডিপি, এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক সম্পর্কে জানুন। আপনার বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ কী জন্য বিখ্যাত, বিখ্যাত শিক্ষক এবং মুক্তিযুদ্ধে 
আপনার বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের অবদান সম্পর্কে ধারণা রাখুন।

ভাইভা চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ

সফলভাবে মৌখিক পরীক্ষা শেষ করার জন্য কিছু বিষয়ে মনোযোগী হতে হয়:
স্বচ্ছতা: তথ্যের নির্ভুলতা ও সরলতা।
স্পষ্টতা: উচ্চারণে স্পষ্টতা ও সহজবোধ্যতা।
আত্মবিশ্বাস: কোনোভাবেই নার্ভাস হবে না।
বুদ্ধিবৃত্তিক ও প্রাণবন্ত দৃষ্টিভঙ্গি: আগ্রহ এবং বিচক্ষণতা প্রদর্শন।
কৌশলী উপস্থাপন: শুধু উত্তর জানা নয়, উত্তর দেওয়ার এবং নিজেকে তুলে ধরার কৌশল জানা।
মনে রাখবেন, বিসিএসের মতো গুরুত্বপূর্ণ চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় উত্তরের বিষয়বস্তুর পাশাপাশি উত্তর দেওয়ার কৌশল এবং নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
 এ ক্ষেত্রে আপনাকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে হবে। অন্যদিকে, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে কী কী অবদান রাখছে, সে সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে জানতে হবে। 

আরও পড়ুন

×