ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার

জ্ঞান, গবেষণা ও ঐতিহ্যের বাতিঘর

জ্ঞান, গবেষণা ও ঐতিহ্যের বাতিঘর
×

শতবর্ষ পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার

ড. মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ১০:৫৪

একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার মানদণ্ড নির্ণয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো তার গ্রন্থাগার ব্যবস্থা। গ্রন্থাগার কেবল বইয়ের সংগ্রহশালা নয়; এটি জ্ঞান, গবেষণা, সৃজনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের প্রাণকেন্দ্র। বাঙালি জাতির জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে এবং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিকাশে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার বাংলাদেশের বৃহত্তম একাডেমিক গ্রন্থাগার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রা শুরু করে এই ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাগার। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং বিশ্বের জ্ঞানপিপাসু গবেষক ও পাঠকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানভান্ডার হিসেবে পরিচিত। শতবর্ষেরও বেশি সময় ধরে গ্রন্থাগারটি শিক্ষা, গবেষণা, সৃজনশীলতা এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চার মাধ্যমে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে চলেছে। গৌরবের শতবর্ষ অতিক্রম করে ২০২৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার ১০৫তম বর্ষে পদার্পণ করেছে।

একটি গ্রন্থাগারের প্রকৃত শক্তি তার সংগ্রহে নিহিত থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের যাত্রা শুরু হয় ঢাকা কলেজ ও ঢাকা ল কলেজ থেকে প্রাপ্ত প্রায় আঠারো হাজার বই নিয়ে। বর্তমানে এর সংগ্রহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ লাখ বইয়ে। দেশি-বিদেশি দুর্লভ গ্রন্থের পাশাপাশি এখানে রয়েছে বিপুলসংখ্যক গবেষণা জার্নাল, ম্যাগাজিন ও সাময়িকী। বিশ্বের খ্যাতনামা ই-বুক, ই-জার্নাল এবং ই-রিসোর্স সংযুক্ত হওয়ায় গ্রন্থাগারটি আধুনিক জ্ঞানচর্চার একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

গ্রন্থাগারের ডিজিটাল রিপোজিটরিতে বর্তমানে ৪,৪৫৬টি এমফিল ও পিএইচডি থিসিস সংরক্ষিত রয়েছে, যা গবেষকদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের অন্যতম গর্বের সম্পদ হলো এর দুর্লভ পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ। বর্তমানে এখানে প্রায় ৩০,০০০-এর অধিক প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় দুর্লভ পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত রয়েছে।
১৫শ থেকে ১৯শ শতকের মধ্যে রচিত এসব পাণ্ডুলিপি সংস্কৃত, বাংলা, আরবি, হিন্দি, মৈথিলি এবং প্রাচীন বাংলা ভাষা ও হরফে রচিত। এগুলো তালপাতা, কলাপাতা, গাছের বাকল এবং হাতে তৈরি তুলট কাগজে লেখা হয়েছে। এসব পাণ্ডুলিপি শুধু বাংলাদেশের নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানভান্ডার হিসেবে বিবেচিত। এই অমূল্য ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ বর্তমানে পাণ্ডুলিপিগুলোর ডিজিটাল সংরক্ষণের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

গবেষকদের সুবিধার্থে গ্রন্থাগারটি পুরোনো ও ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্র বাঁধাই করে সংরক্ষণ করছে। পাশাপাশি ১০৩টি শিরোনামের নতুন ও পুরোনো সংবাদপত্র ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষিত হয়েছে, যা গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।

বর্তমানে গ্রন্থাগারে একসঙ্গে প্রায় ২,০০০ শিক্ষার্থী বসে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

×