ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্রিন ইউনিভার্সিটি

অ্যানাটোলিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জে এশিয়ার সেরা

অ্যানাটোলিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জে এশিয়ার সেরা
×

অংশ নেওয়া গ্রিন ইউনিভার্সিটির মার্স রোভার টিম

 আকাশ রহমান

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৫০

একটি স্বপ্ন, কিছু তরুণের সাহস এবং শেষ পর্যন্ত হাল না ছাড়ার মানসিকতা– এই তিনের সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক স্পেস রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় নতুন ইতিহাস গড়েছে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (জিইউবি) মার্স রোভার টিম। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ অ্যানাটোলিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জ (এআরসি) ২০২৬-এ ২০টি ফাইনালিস্ট দলের মধ্যে বিশ্বে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে দলটি। একই সঙ্গে এশিয়ার অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করে বাংলাদেশের জন্যও একটি নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে।

২৯ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। শুরুতে ৪০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক দল প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও কঠোর বাছাইয়ের পর মাত্র ২০টি দল ফাইনালে জায়গা করে নেয়। সেই ফাইনালিস্টদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে গ্রিন ইউনিভার্সিটি মার্স রোভার টিম। প্রতিযোগিতায় শুধু রোভার তৈরি করলেই চলেনি। বাস্তবসম্মত মহাকাশ মিশনের আদলে বিভিন্ন জটিল চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে দলগুলোর রোভারের নকশা, স্বয়ংক্রিয় পরিচালনা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং দলগত সমন্বয় যাচাই করা হয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জিইউবির শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে ছিল দীর্ঘ প্রস্তুতি এবং নানা সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই। একটি মার্স রোভার তৈরি করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার স্বপ্ন থেকেই যাত্রা শুরু। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রথম ধাপেই আসে দল গঠনের চ্যালেঞ্জ।

রোভার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অনেক প্রযুক্তি বাংলাদেশে সহজে পাওয়া যায় না। দলের মেন্টর আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, দল গঠনই ছিল আমাদের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ। রোভার তৈরিতে প্রয়োজনীয় অনেক প্রযুক্তিও বাংলাদেশে সহজে পাওয়া যায় না। অর্থায়নও ছিল বড় সমস্যা।  তুরস্কের প্রতিযোগিতায় দলের হয়ে মাঠে ছিলেন ছয়জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে স্টুডেন্ট টিমলিড রেজওয়ান ইনতেসার এবং ম্যানেজমেন্ট সাব-টিম লিড শাহরিয়ার বিন সালাম শিক্ষার্থী পর্যায়ে নেতৃত্ব দেন।

তুরস্কে দলের হয়ে অংশ নেন সফটওয়্যার অ্যান্ড অটোনমাস সাব-টিমলিড ময়নুল হাসান জিশান, মেকানিক্যাল ডিজাইন সাব-টিমলিড বিবেক দত্ত সর্গ, মেকানিক্যাল ফ্যাব্রিকেশন সাব-টিমলিড বিশাল দত্ত স্বপ্ন এবং ইলেকট্রিক্যাল সাব-টিমলিড মো. শাহরিয়ার মাহমুদ। বাংলাদেশ থেকে দলের কাজে যুক্ত ছিলেন মিডিয়া অ্যান্ড ব্র্যান্ডিং সাব-টিমলিড সাফি আলম এবং সায়েন্স সাব-টিমলিড মোছা. আফরিন আক্তার ইমাসহ অন্য সদস্যরা।

আরও পড়ুন

×