বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুত্ব ও নেটওয়ার্কিং
শুরু থেকেই একটি ইতিবাচক ও কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারলে অনেক পথ সহজ হয়ে যায়
নিয়ামুল ইসলাম তামিম
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৩২
বন্ধু, আজকের ক্লাসটা কোন রুমে? বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অসংখ্য গল্পের সূচনা হয় এমনই একটি অতি সাধারণ প্রশ্ন থেকে। দেশের দুই প্রান্তের দুটো অচেনা পরিবারের মানুষের প্রথম পরিচয়, তারপর একসঙ্গে ক্লাস, ল্যাব, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষার চাপ আর ক্যান্টিনের আড্ডা–এভাবেই তৈরি হয় গভীর বন্ধুত্ব। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) প্রতিটি ব্যাচেই রয়েছে এমন শত শত স্মৃতির গল্প। পকেট গেট সংলগ্ন ‘প্যারিস রোড’-এর আড্ডা, টং ও বিটাক মোড়ের চা, গ্রুপ স্টাডি কিংবা বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রম– এসবের মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে পারস্পরিক আন্তরিক সম্পর্ক। আর এসব সম্পর্কের মধ্য দিয়েই তৈরি হয় এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, যা বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ছাড়াও ভবিষ্যতের পথচলাকেও সহজ ও সম্ভাবনাময় করে তোলে।
অনেকেই ‘নেটওয়ার্কিং’কে জটিল বা অপ্রয়োজনীয় মনে করলেও এটি বিশ্ববিদ্যালয় জীবন এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নেটওয়ার্কিং মানে শুধু পরিচিত মানুষের সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং এমন সম্পর্ক তৈরি করা– যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা, শেখা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ থাকে। ক্লাসের নোট নেওয়া, পরীক্ষার প্রস্তুতি, গ্রুপ স্টাডি, প্রতিযোগিতা কিংবা চাকরির সুযোগের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক বড় ভূমিকা রাখে।
বন্ধুত্ব ও নেটওয়ার্ক নিয়ে বুটেক্সের ৪৬তম ব্যাচের (টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট) গ্র্যাজুয়েট তানজিম আফসানা দ্বীনা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে নোট আদান-প্রদান আর কঠিন কোর্সগুলো বোঝানোর মাধ্যমে আমাদের বন্ধুত্ব শুরু হয়েছিল। ল্যাব রিপোর্ট, ডিবেট ক্লাবের স্মৃতি কিংবা পরীক্ষা শেষে হাতিরঝিল ঘোরার মুহূর্তগুলো আজও সেরা স্মৃতি। স্নাতক শেষ হলেও সে বন্ধন অটুট। কর্মজীবনে এসে অনুধাবন করেছি, সঠিক বন্ধুত্ব ও ইতিবাচক নেটওয়ার্কিং নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করার সবচেয়ে বড় শক্তি।’
৪৭তম ব্যাচের মো. সাহরিয়ার আলম পাভেল (ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্রেইনি মার্চেন্ডাইজার, প্রাণ আরএফএল) সঠিক বন্ধু নির্বাচনের ওপর জোর দিয়ে জানান, ‘একজন মানুষের চিন্তাভাবনা ও অভ্যাসের ওপর তার বন্ধুদের বড় প্রভাব থাকে। তাই ভালো বন্ধু নির্বাচন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে সত্যিকারের বন্ধু পাওয়া যায় না—কথাটির সঙ্গে আমি একমত নই। সঠিক মানুষকে বন্ধু বেছে নিলে তা আজীবনের সম্পদ হয়। এ ছাড়া টেক্সটাইল খাতে ক্যারিয়ার গড়তে সিনিয়রদের কাছ থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা জানা ও সুসম্পর্ক রাখা অত্যন্ত জরুরি।’
একই ব্যাচের ওয়াসিমা তাসনিম (এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ল্যাব ট্রেইনি, আরএইচ করপোরেশন) করপোরেট জীবনে এই সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘কর্মজীবনের ব্যস্ততায় আগের মতো দেখা না হলেও মেসেজেই সংযোগ থাকে। বুটেক্সের সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক সত্যিই দারুণ। কর্মক্ষেত্রে বুটেক্সের সিনিয়র ভাইয়া-আপুরা সবসময় ছোট ভাইবোনের মতো দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেন।’
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যেমন শেখায়, তেমনি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিসত্তাকে সমৃদ্ধ করার মূল চাবিকাঠি।
- বিষয় :
- বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়