ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

স্যার আবেদের ইদান প্রাইজ নিলেন ছেলে ও মেয়ে

স্যার আবেদের ইদান প্রাইজ নিলেন ছেলে ও মেয়ে
×

স্যার ফজলে হাসান আবেদ- ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:৫১

অর্থমূল্যের দিক থেকে শিক্ষার উন্নয়নে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পুরস্কার ইদান প্রাইজ বৃহস্পতিবার স্যার ফজলে হাসান আবেদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পুরস্কারের স্বর্ণপদকটি গ্রহণ করেন তার মেয়ে ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন তামারা আবেদ। আর সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন তার ছেলে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স ও আলট্রা পুওর গ্র্যাজুয়েশন কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক শামেরান আবেদ।

পুরষ্কার প্রদান উপলক্ষে এর প্রবর্তক ড. চার্লস চেন ইদান চলতি সপ্তাহে দু'দিনের সফরে ঢাকায় আসেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্র্যাকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ পুরষ্কার তুলে দেন। শিক্ষার উন্নয়নে যুগান্তকারী অবদানের জন্য ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্যার ফজলে হাসান আবেদ 'ইদান প্রাইজ ফর এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট লরিয়েট' হিসেবে ঘোষিত হন। অক্টোবরে ইদান প্রাইজ ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় তার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অঙ্গনের এই কীর্তিমান মানুষটির কাছ থেকে তারা বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে পটপরিবর্তনের লক্ষ্যে তার দিকদর্শী নির্দেশনা এবং কেন্দ্রীয় ভূমিকা বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন।

২০ ডিসেম্বর স্যার ফজলে হাসান আবেদ মৃত্যুবরণ করার পরে ড. চেন ঢাকায় উপস্থিত হয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ও পুরষ্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত নেন। ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে ব্র্যাক পরিচালিত একটি স্কুল এবং বনশ্রীতে একটি প্রাক-শৈশব উন্নয়ন কেন্দ্র (আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার) বা প্লে ল্যাব পরিদর্শন করেন।

পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার উন্নয়নে স্যার ফজলে হাসান আবেদের নিবেদিতপ্রাণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন ড. চার্লস চেন। তিনি বলেন, প্রকৃত সহানুভূতি, সাহস ও বিশ্বাসের সঙ্গে মানুষের সেবায় স্যার ফজলে হাসান আবেদ জীবন উৎসর্গ করেছেন। চারপাশের মানুষকে নিরাশা ত্যাগ করে আশাবাদী হতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন তিনি। মানুষের সুপ্ত সম্ভাবনায় আস্থাশীল হতে শিখিয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে শামেরান আবেদ ধন্যবাদসূচক বক্তব্য পাঠ করেন। তামারা আবেদ বলেন, বাবার পক্ষ থেকে আজ এই পুরষ্কার গ্রহণ করতে পেরে অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। তার বিপুল কর্মযোগের উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা বদ্ধপরিকর।'

'ইদান প্রাইজ ফর এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট লরিয়েট' হিসেবে স্যার ফজলে হাসান আবেদকে একটি সোনার মেডেল, একটি সার্টিফিকেট এবং তিন কোটি হংকং ডলার (প্রায় ৩৩ কোটি টাকা) মূল্যমানের অর্থ প্রদান করা হয়েছে। অর্থ পুরস্কারের অর্ধেক নগদ অর্থ এবং বাকি অর্ধেক একটি প্রকল্পের তহবিল হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্‌, ইদান প্রাইজ ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি-জেনারেল এডওয়ার্ড মা, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের (বিআইইডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইরাম মারিয়াম এবং ব্র্যাক ও ইদান প্রাইজ ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দ পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার মাধ্যমে উত্তম বিশ্ব সৃষ্টির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৬ সালে হংকংয়ে ইদান প্রাইজ প্রবর্তন করা হয়। চীনভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোম্পানি টেনসেন্টের অন্যতম কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা ড. চার্লস চেন ইদান এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন।

আরও পড়ুন

×