ওষুধের দোকানও ক্রেতাশূন্য
জাহিদুর রহমান
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২০ | ০৪:৩৪ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
রাজধানীর কল্যাণপুরের মিজান টাওয়ারে মা মেডিসিন কর্নারের মালিক জামাল উদ্দিন চৌধুরী। এই দোকানের পাশে তার আরেকটি চশমার দোকানও আছে। জামাল চৌধুরীর দোকানের পাশেই কয়েকটি হাসপাতাল থাকায় একসময় ব্যবসা জমজমাট ছিল। দৈনিক দেড় থেকে দুই লাখ টাকা বিক্রি হতো তার। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবের পর ব্যবসা এখন লাটে উঠেছে। দৈনিক ২৫ হাজার টাকা বিক্রি করতেও কষ্ট হয়ে যায় তার। ফলে নয়জন কর্মচারীর বেতন ও দোকান ভাড়া নিয়ে চিন্তিত তিনি। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন কখনও কল্পনাও করেননি। গত কিছু দিন ধরে লোকসান ঠেকাতে কেনা দামে বিক্রি করেও ক্রেতা পাচ্ছেন না। শুধু জামাল উদ্দিন চৌধুরী নন, আশাপাশে সব ওষুধের দোকানই ক্রেতাশূন্য।
ব্যবসায়ীরা ভেবেছেন, অন্যান্য সামগ্রীর দোকানে ক্রেতা না থাকলেও ওষুধের দোকানে ক্রেতার ভিড় থাকবে। কিন্তু এখন তার উল্টো চিত্র। করোনা প্রতিরোধের সামগ্রী মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ছাড়া আর কিছুই তেমন বিক্রি হচ্ছে না। অবশ্য সেসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।
ক্রেতা না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ওষুধের দোকানি। তিনি বলেন, ঢাকার অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে রোগী না থাকায় ওষুধের বিক্রিও কমে গেছে। এ ছাড়া মানুষ ঢাকা শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়ায় বড় প্রভাব পড়েছে।
এমন অবস্থায় পাড়া-মহল্লার ওষুধের দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মিরপুরের টোলারবাগের বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজ উদ্দিন মোবারকের পাঁচ মাসের সন্তান হঠাৎ অসুস্থ বোধ করায় তিনি ছুটে যান ফার্মেসিতে। কিন্তু নিজের মহল্লা থেকে আশপাশের এলাকার ফার্মেসি ঘুরে বেশিরভাগই বন্ধ পেয়েছেন তিনি। অত্যাবশ্যক পণ্য হিসেবে ওষুধের দোকান খোলা রাখার কথা থাকলেও ক্রেতা না থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় ফার্মেসি দিনের অধিকাংশ সময়ই বন্ধ থাকছে। খোলা থাকলেও ক্রেতার অভাবে ফার্মেসি মালিকরা নতুন করে ওষুধের অর্ডার দিচ্ছেন না। ফলে অনেক ক্রেতা প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। খুচরা ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, বাধ্য হয়ে তারা দোকান বন্ধ রেখেছেন।
আবার করোনার উপসর্গ যেমন সর্দি-কাশি-জ্বর নিয়ে ফার্মেসিতে গেলে অনেকে ওই ব্যক্তির কাছে ওষুধ বিক্রি করছেন না। হাঁচি, সর্দি-কাশির উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের চেম্বারে ছুটেছিলেন দারুস সালামের বাসিন্দা এক ব্যক্তি। গোটা কয়েক ওষুধের দোকান ঘুরেও ওষুধ মেলেনি। তার করোনার উপসর্গ রয়েছে বলে কেউই ওষুধ বিক্রি করতে রাজি হননি। করোনার কারণে এখন জ্বরের রোগী এলেও তারা ভয় পেয়ে যান।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কিছু কিছু দোকানে ওষুধ কেনার জন্য নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়ানোর স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। অনেক ফার্মেসিতে ব্যারিকেড দিয়ে প্রবেশ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। গ্লাসে হাত দেবেন না, দূরে থেকে জিজ্ঞাসা করুন ইত্যাদি কথা লেখা রয়েছে। অধিকাংশ দোকানের সামনে মাস্ক, গ্লাভস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ করোনা প্রতিরোধী পণ্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
