ফুটপাতজুড়ে নীরব বোমা
মাজহারুল ইসলাম রবিন
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০
দেশে অহরহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনায় প্রাণহানিসহ দগ্ধ বা আহত হয়ে অনেকে সারাজীবনের জন্য কাজ করার ক্ষমতা হারাচ্ছেন। তবুও ত্রুটিপূর্ণ, মানহীন গ্যাস সিলিন্ডার বা এর ভুল ব্যবহারের বিষয়ে টনক নড়ছে না কারও। বরং কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই রাজধানীজুড়ে ফুটপাতের ওপর গ্যাস সিলিন্ডার ও চুলা পাশাপাশি রেখে রান্নাবান্না চালাচ্ছে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস সিলিন্ডারের পাশেই চুলা রাখলে বিস্ফোরণের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। রাজধানীজুড়ে বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ ফুটপাতের পাশে সিলিন্ডার ও চুলা একসঙ্গে রেখে রান্নাবান্না করায় তাদের কর্মচারী থেকে শুরু করে রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষও ঝুঁকিতে আছে।
রায়েরবাজারের সাদেক খান সড়কে দেখা যায়, ভাই ভাই হোটেলে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে এক ফুট দূরত্বে চুলায় শিঙাড়া ভাজছেন এক ব্যক্তি। হোটেলটির ক্যাশ কাউন্টারে বসা কর্মী মো. সাব্বিরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ফুটপাতে সিলিন্ডার ও চুলা রাখার বিষয়ে মালিক বলতে পারবেন। তিনিও জানান, তাঁদের হোটেলেও অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা নেই। শুধু এ দুই এলাকা নয়, আশপাশের পাড়া-মহল্লাগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালে দেশে ১১৮টি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ জন, আহত হন ৬৯ জন। আর্থিক ক্ষতি হয় ১২ কোটি টাকারও ওপরে। পরের বছর দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫৭-তে। প্রাণ হারান অন্তত ১০ জন, আহত হন ১০৭ জন। আর্থিক ক্ষতি হয় প্রায় চার কোটি টাকা। ২০২১ সালে দেশে ৮৯৪টি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ২০২২ সালে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনে ৩০ জন আহত ও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তবে এ পরিসংখ্যানের বাইরে দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে করেন অনেকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলিন্ডারের হোস পাইপ, রেগুলেটর, গ্যাস ভালভের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের ত্রুটির কারণে গ্যাস লিক হয়। এরপর ঘটে বিস্ফোরণের ঘটনা। এ ছাড়া অনেকে চুলার পাশে রাখায় অতিরিক্ত তাপে সিলিন্ডার গরম হয়েও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ অফিসার শাহজাহান শিকদার বলেন, ‘আমরা সামগ্রিকভাবে অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করি। তবে বিচ্ছিন্নভাবে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় যেসব ছোট দোকান আছে, তারা সিটি করপোরেশন থেকে অনুমোদন নেয়। একটা প্রতিষ্ঠান সারাবছর কতটুকু দাহ্য বস্তু রাখতে পারবে, এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন নেওয়া লাগে। তবে এই দোকানগুলো এর আওতাভুক্ত নয়। তারপরও আমরা অগ্নিনিরাপত্তার পরামর্শ সবাইকে দিই। আমরা সব দোকান বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব সময় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখতে বলি। এ ছাড়া চুলা জ্বালালে সিলিন্ডারটা দূরে রাখার পরামর্শ দিই। একই সঙ্গে বিস্ফোরণ দূর করতে মানসম্পন্ন সিলিন্ডার ব্যবহারের কথা বলি।’
