ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

এক দশকেই বিস্মৃত সেই ১২৪ মৃত্যু

এক দশকেই বিস্মৃত সেই ১২৪ মৃত্যু
×

আতাউর রহমান

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

দশ বছর আগের আজকের দিনে পুরান ঢাকার নিমতলীতে রাসায়নিকের গুদাম থেকে লাগা আগুনে দাউদাউ পুড়েছিল সারি সারি বাড়ি ও দোকানপাট। আগুনের লেলিহান শিখা খেলা করেছিল অলিগলিতে। সেই ভয়ঙ্কর রাতের আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে প্রাণ হারান ১২৪ জন। দুই শতাধিক বাসিন্দা দগ্ধ ও আহত হন।
বাসাবাড়িতে গড়ে ওঠা রাসায়নিকের আগুনে হতাহতের সেই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তখন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। ২০১০ সালের ৩ জুন রাতের ওই ট্র্যাজেডিতে দায়ীদের শনাক্ত বা বিচারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া তো দূরের কথা, বংশাল থানায় করা সেই জিডির কথাই পুলিশ এখন মনে করতে পারছে না। এর বাইরে সরকার গঠিত টাস্কফোর্সের ১৭ দফা সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি এত বছরেও। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণও পাননি।
পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি অলিগলির বাসাবাড়ি থেকে যে রাসায়নিকের গুদাম তারপরও সরেনি, তা গেল বছর চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে চকবাজারের চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারির রাতে রাসায়নিকের গুদামে লাগা সে আগুনে প্রাণ হারান ৭১ জন। নিমতলীর ঘটনার নয় বছরের মাথায় ওই ঘটনার পর পুরান ঢাকা থেকে আবারও রাসায়নিকের গুদাম অপসারণের তোড়জোড় শুরু হলেও লোক দেখানোতেই আটকে আছে সেই কার্যক্রম।
এমন পরিস্থিতিতে আজ নিমতলী-নবাবকাটরার স্বজনহারা মানুষ চোখের জলে পালন করবে এ দিন। এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ দশ বছরেও ভয়াবহ এ ঘটনার জন্য দায়ীরা শনাক্ত না হওয়ায় এবং ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় তাদের ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে প্রত্যেক বছরের মতো এবার আর তারা একত্রিত হবেন না। তবে নিহতদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পারিবারিকভাবে দোয়া ও কবর জিয়ারত করবেন।
জিডির তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে বংশাল থানার ওসি শাহীন ফকির সমকালকে বলেন, ঘটনার সময়ে তিনি এই থানাতে ছিলেন না। ওই ঘটনাতে জিডি হয়েছিল কিনা বা কেউ দায়ী ছিল কিনা, তা তিনি জানেন না। তবে জিডি হয়ে থাকলে তার তদন্ত চলছে নাকি তা নিষ্পত্তি হয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে দেখবেন তিনি।
নিমতলী-নবাবকাটরা এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একেকটা আগুনে হতাহতের পর সবাই সচেতন হয়ে ওঠেন। নিমতলী কিংবা চুড়িহাট্টার ট্র্যাজেডির পরও তাই হয়েছিল। কিন্তু রাসায়নিকের গুদাম সরানোর সব উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত স্তিমিত হয়ে পড়েছে।
নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের রাতে স্থানীয় বাসিন্দা রুনা আক্তারের বিয়ের পানচিনির অনুষ্ঠান ছিল। ওই মাসেই বিয়ের দিন-তারিখ নির্ধারিত ছিল তার বড় বোন সাকিনা আক্তার রত্নার। একই এলাকার আসমা আক্তারেরও বিয়ে ঠিক হয়েছিল। তবে সেই আগুনে তিনটি পরিবারের কাছের স্বজনদের অনেকেই প্রাণ হারান। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই তিন কন্যাকে মায়ের মমতায় বুকে টেনে নেন। নিজের সরকারি বাসভবন গণভবনে নিয়ে তিনজনকেই বিয়ে দেন পারিবারিকভাবে আগে থেকেই ঠিক করা বরদের সঙ্গে। তিন বরকে প্রধানমন্ত্রী চাকরিও দেন।

আরও পড়ুন

×