অগ্নিকাণ্ডে ৫ রোগীর মৃত্যু
ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা
গত ২৭ মে রাতে ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে আগুন লেগে ৫ রোগীর মৃত্যু হয়। ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২০ | ০৩:০২ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করে মামলা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে মৃত এক রোগীর স্বজন বাদী হয়ে বুধবার রাতে গুলশান থানায় এ মামলা করেন। এতে ইউনাইটেড হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
গুলশান থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা এসআই তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অগ্নিকাণ্ডে মারা যাওয়া অ্যান্থনি ভের্নন পলের জামাতা রোনাল্ড নিকি গোমেজ বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। হাসপাতালের চেয়ারম্যান, এমডি, সিইও, পরিচালক, চিকিৎসক ও নার্সসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২৭ মে রাতে ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে ছুটে যান। তবে আগুন নেভানোর আগেই ঝরে যায় পাঁচটি প্রাণ। পরে তাদের মৃতদেহ বের করে আনা হয়। এ ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ দাবি করে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়।
মামলার বাদী রোনাল্ড নিকি গোমেজ জানান, ঘটনার দিন তিনি ইউনাইটেডের কর্মকর্তাদের অবহেলা নিজে দেখেছেন। দুইবার করোনা টেস্ট নেগেটিভ আসার পরও তার স্বজনকে আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হয়। চিকিৎসক ও প্রশাসকদের স্বেচ্ছাচারিতায় আরও কয়েক রোগীকে সেখানে রাখা হয়েছিল, তাদেরও করোনা নেগেটিভ ছিল। তাই এই ঘটনায় সম্পূর্ণ দায় ইউনাইটেড হাসপাতালের। পরিবারের সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় মামলা করতে কয়েকদিন দেরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
মামলার এজাহারে বাদী হাসপাতালে তার স্বজনকে ভর্তির পর যা যা দেখেছেন, তার সবই উল্লেখ করেছেন। এজাহারে বলা হয়, ঘটনার পর লাশ চট্টগ্রামে নেওয়ার আগে তারা দেড় দিন ইউনাইটেডের মর্গ ব্যবহার করেন। এজন্য ন্যূনতম মানবিকতা না দেখিয়ে ইউনাইটেড কর্মকর্তারা তাদের কাছে বিল দাবি করেন। এমনকি হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসার জন্য দেড় লাখ টাকার ভাউচারও ধরিয়ে দেন।