পূর্ব রাজাবাজার লকডাউন, মাঠে সেনা সদস্যরা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২০ | ১২:০২ | আপডেট: ০৯ জুন ২০২০ | ১৪:০৭
করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী বেশি থাকায় রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার পরীক্ষামূলকভাবে পুরোপুরি লকডাউন করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মাঠে থাকছেন সেনা সদস্যরাও।
মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে ওই এলাকায় লকডাউনের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। লকডাউন চলাকালে পূর্ব রাজাবাজারে বসবাসরত লোকজন বাইরে যেতে পারবেন না এবং বাইরের লোকজন ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন না।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলাকায় একটি মাত্র প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ (গ্রিন রোডে আইবিএ হোস্টেলের পাশে) খোলা থাকবে। লকডাউন চলাকালে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। জনগণের চলাচল অত্যন্ত সীমিত রাখা হবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয় করা যাবে যা বাসায় পৌঁছে দেয়া হবে। এটুআই ও ই-ক্যাব যৌথভাবে এটি পরিচালনা করবে। হোম ডেলিভারির জন্য ইতিমধ্যে একদল প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী তৈরি করা হয়েছে।
যাদের অনলাইন সুবিধা নেই, নগদ অর্থে খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করতে চান তাদের জন্য দুই-একটি শাক-সবজি, মাছ-মাংসের ভ্যান, ভ্যানচালক ও পণ্যসামগ্রী সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করে ভিতরে প্রবেশ করানো হবে।
এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পরীক্ষামূলকভাবে সম্পূর্ণ এলাকা লকডাউন করা হচ্ছে। এই লকডাউন নিশ্চিত কল্পে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সেনা সদস্যরাও উক্ত এলাকায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে।
এতে আরও বলা হয়, এজন্য উক্ত এলাকায় সেনা টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেনা সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে লকডাউন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষপসমূহ গ্রহণ করবে।
এর আগে সোমবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকালিার লক্ষ্যে ডিএনসিসি এলাকার জন্য গঠিত কমিটির এক অনলাইন সভায় পূর্ব রাজাবাজারকে লডকাউনের সিদ্ধান্ত হয়।
ডিএনসিসির ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান ইরান জানিয়েছেন, পূর্ব রাজাবাজার এলাকার কর্মহীন, অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের একটি তালিকা প্রণয়ন করছেন। তালিকা অনুযায়ী তাদেরকে ডিএনসিসি থেকে ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করা হবে। ওই এলাকার অসুস্থ রোগীদের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক টেলিমেডিসিন সার্ভিস চালু করা হবে।
পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় অবস্থিত নাজনিন স্কুল এন্ড কলেজে কোভিড-১৯ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এটি সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে। বুথটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক।
লকডাউন যথাযথভাবে পালিত হওয়ার লক্ষ্যে ওই এলাকায় পুলিশের টহল থাকছে এবং মোবাইল কোর্টও পরিচালিত হবে। তবে গুরুতর রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারবে। এছাড়া জরুরি সেবা যেমন বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ইত্যাদি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীগণ লকডাউন এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন।
ডিএনসিসির বিশেষ পরিচ্ছন্নতা টিম সেখানে কাজ করবে। তবে ব্যবহৃত সুরক্ষা সামগ্রী বা মেডিকেল বর্জ্য যেমন: মাস্ক, গ্লাভস ইত্যাদি আলাদাভাবে প্যাকেট করে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাছে দিতে হবে। মেডিকেল বর্জ্য কোনোভাবেই অন্যান্য বর্জ্যের সাথে মেশানো যাবে না।