বিমানবন্দর এলাকায় ছিনতাইকারী চক্র, চার মাসে গ্রেপ্তার ১৩৯
অভিযুক্ত মনির হোসেন
শহিদুল আলম
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৫ | ২০:০৬ | আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৫ | ২০:৪৫
রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় মনির হোসেন (১৯) নামে সংবদ্ধ ছিনতাই চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চলন্ত ট্রেনে থাকা এক যাত্রীর কান থেকে স্বর্ণের দুল থাবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানায়, শনিবার বিকেল ৪টা ২০মিনিটে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ঢাকা–নোয়াখালীগামী চলন্ত একটি আন্তঃনগর উপকুল ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। পরে দৌড়ে পালানোর সময় তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় বিমানবন্দর পুলিশ বক্সের একটি টহল দল। তবে অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তার করা হলেও জামিনে বেরিয়ে ফের একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে তারা।
অভিযুক্ত মনির হোসেন কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জের ফজলু মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে ঢাকার কমলাপুর এলাকায় থাকেন। মনির হোসেন ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, এ নিয়ে শনিবার পর্যন্ত গত চার মাসে বিমানবন্দর এলাকা থেকে চক্রের ১৩৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন শাস্তি দিয়ে তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ছিনতাই, পকেটমারসহ বিভিন্ন চক্রের দৌরাত্ম্য কিছুতেই থামছে না। অবশ্য পুলিশও বলছে, এ চক্রের দৌরাত্ম্যর কথা।
পুলিশ জানায়, গত ৪ মাসে চক্রের অন্তত ১৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের হেফাজত থেকে জব্দ করা হয় ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত ধারালো বিভন্ন যন্ত্র। এ ছাড়াও তাদের হেফাজত থেকে জব্দ করা হয় বিভিন্ন যাত্রীদের কাছ থেকে ছিনতাই ও পকেটমার করা বিভিন্ন পণ্য দ্রব্য। জব্দ এসব পণ্য ভুক্তভোগীদের ফেরতও দেওয়া হয়।
জানা যায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উত্তরা পর্যন্ত ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে উঠছে অপরাধী চক্র। অজ্ঞান পার্টি, ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের হাতে সহায় সম্বল হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রেহাই মিলছে না সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন পেশার লোকজনের। তবে এসব অপরাধী চক্রের টার্গেট বিশেষ করে যারা বিদেশ যেতে ঢাকায় আসেন বা বিদেশ থেকে এসে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে যান তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিমানবন্দর থানার অবস্থান বিমানবন্দর এলাকায় র্যাব সদর দপ্তর ভবনের নিচে। বিমানবন্দর স্পর্শকাতর এলাকা হওয়ায় থানায় প্রবেশে বিভিন্ন পয়েন্টে এপিবিএন ও র্যাব পুলিশের তল্লাশিসহ বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। এ কারণে চক্রের শিকার হয়েও থানায় অভিযোগ করছেন না ভুক্তভোগী যাত্রীরা। এ কারণে বরাবরের মতো আড়ালেই থেকে যাচ্ছে বিমানবন্দর এলাকার এসব ছিনতাই-অপরাধের ঘটনা।
এ ব্যপারে বিমানবন্দর পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এসআই এসএম আবদুল গফুর সমকালকে জানান, ছিনতাই, পকেটমারসহ বিভিন্ন চক্রের বিরুদ্ধে এলাকায় পুলিশি অভযান অব্যাহত আছে। প্রতিদিনই চক্রের কোনো না কোনো সদস্য ধরা পড়ছে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিমানবন্দর আন্তঃজেলা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় রাত–দিন ২৪ ঘণ্টা চলাচল করেন দেশি–বিদেশি লোকজন। এ কারণে অন্যান্য এলাকার চেয়ে এ এলাকায় বিভিন্ন চক্রের আনাগোনা বেশি। এলাকায় পুলিশের টহলও জোরদার রয়েছে।
এদিকে পুলিশের ভাল কাজের স্বীকৃতি হিসাবে শনিবার রাজধানীর বিমানবন্দর জোনসহ উত্তরা বিভাগের বিভিন্ন থানার কর্তব্যরত বেশ কয়েক পুলিশ কর্মকর্তাকে অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়। রাজধানীর উত্তরা বিভাগ থেকে এ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ ব্যপারে পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ–পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. মহিদুল ইসলাম সমকালকে জানান, ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিমানবন্দর থানাসহ বিভিন্ন থানার পুলিশ কর্মকর্তাকে অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসাবে যেমন অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়, তেমনি আবার কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে খারাপ কাজের যদি অভিযোগ ওঠে তাহলে পুরস্কারের পরিবর্তে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হয়।
- বিষয় :
- ছিনতাই
- ছিনতাইকারী চক্র
