মার্চে ভোগাবে কিউলেক্স
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৪৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকায় মশার উপদ্রব এখন আর কেবল বিরক্তির বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, নগর ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সক্ষমতার বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার সংখ্যা কিছুটা কমলেও কিউলেক্স মশার সংখ্যা বাড়ছে। এই বৃদ্ধি আগামী মার্চে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। ফলে রাজধানীবাসীকে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হবে।
গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘মশার উপদ্রব ও নাগরিক ভোগান্তি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) এ সভার আয়োজন করে।
ডুরার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মোল্লার সভাপতিত্বে এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক, কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. কবিরুল বাশার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি ড. মো. আরিফুল ইসলাম, ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সাদমান সাকিব।
অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, কিউলেক্সের উত্থান এবং এডিসের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন; দুটিই প্রমাণ করে, ঢাকার মশা সমস্যা আর মৌসুমি নয়। এটি একটি কাঠামোগত ও বৈজ্ঞানিক সংকট। বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য উপেক্ষা করলে তার মূল্য দিতে হবে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য দিয়ে। তবে নাগরিক অংশগ্রহণ ছাড়া ঢাকাকে মশামুক্ত করা অসম্ভব। প্রশাসন তার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। আবার নাগরিক উদাসীনতাও সমানভাবে দায়ী। বর্তমানে এডিস মশা কমলেও কিউলেক্স বাড়ছে এবং আগামী মার্চ মাসে এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাবে।
ডা. নিশাত পারভীন বলেন, ডেঙ্গু বা মশার উপদ্রব কমাতে সিটি করপোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসস্থান ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং সচেতন হতে হবে।
ড. আরিফুল ইসলাম বলেন, মশার সমস্যা থেকে সাময়িক নয়, স্থায়ী মুক্তি প্রয়োজন। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বাসস্থান, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এ সমস্যার মূল অন্তরায়। পরিকল্পনাহীন কাজ শুরু করলে পরবর্তী কোনো উদ্যোগই কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।
- বিষয় :
- মশা
