ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘এ মিসিং ক্যান অব ফিল্মে’র প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘এ মিসিং ক্যান অব ফিল্মে’র প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ২১:২৩

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের চলচ্চিত্র কেন্দ্রের আয়োজনে নির্মাতা ও গবেষক নাঈম মোহায়মেনের আলোচিত অনুসন্ধানমূলক চলচ্চিত্র ‘এ মিসিং ক্যান অব ফিল্ম’-এর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৪টায় জাদুঘরের মিলনায়তনে এ বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যা গবেষক, শিক্ষার্থী ও চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত ছিল।
 
চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও সাহিত্যিক জহির রায়হান-এর চলচ্চিত্রিক উত্তরাধিকার, স্মৃতি ও ইতিহাসকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে পুনর্পাঠ ও অনুসন্ধান করে। মোহায়মেন তার চলচ্চিত্রে অতীতের হারিয়ে যাওয়া ফিল্ম রিল, দলিল, রাষ্ট্রীয় ইতিহাস ও ব্যক্তিগত স্মৃতির মধ্যে যে দ্বন্দ্ব ও টানাপোড়েন, সেটিকেই শিল্পভাষায় উপস্থাপন করেছেন। চলচ্চিত্রটি এগিয়েছে জহির রায়হান নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর সূত্র ধরে, যিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্বজোড়া আলোচিত প্রামাণ্যচিত্র ‘স্টপ জেনোসাইড’ নির্মাণের জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয়।

১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি শহীদ হন জহির রায়হান। তিনি ১০টি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও ১২টি উপন্যাস রচনা করেছিলেন, যা আজও বাংলাদেশের শিল্প সাহিত্য ও ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ। চলচ্চিত্র নির্মাতা নাঈম মোহায়মেন চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র ও প্রবন্ধের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রীয় ইতিহাস ও ব্যক্তিগত স্মৃতির সংঘাত নিয়ে কাজ করে থাকেন। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজ্যুয়াল আর্টস বিভাগে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার কাজ আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রদর্শিত ও সমাদৃত হয়েছে এবং ইতিহাস, রাজনীতি ও শিল্পের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে তার গবেষণা সমসাময়িক সময়ে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

প্রদর্শনীতে তিনি বলেন, শিল্পমনা মানুষ, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিহাসের এ নতুন পাঠগুলো খুব প্রয়োজন। এ সময়ের জন্য অনুসন্ধানমূলক শিল্পচর্চা জরুরি, যাতে আমরা অতীতকে নতুনভাবে বুঝতে পারি।
 
প্রদর্শনী শেষে পরিচালক ও দর্শকদের অংশগ্রহণে একটি উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়–শিক্ষার্থী, চলচ্চিত্রকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী ও আগ্রহী দর্শকরা। আলোচনায় চলচ্চিত্র সংরক্ষণ, রাষ্ট্রীয় ইতিহাস নির্মাণ, হারিয়ে যাওয়া ফিল্ম–আর্কাইভ ও মুক্তিযুদ্ধের সাংস্কৃতিক দলিল–সংক্রান্ত নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ উঠে আসে।

আরও পড়ুন

×