মুছাব্বির হত্যা
২৫ মিনিট আগেই ঘটনাস্থলে যায় প্রধান দুই সন্দেহভাজন
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আরও দুজন শনাক্ত
আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪৬ | আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:০৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে হত্যার ২৫ মিনিট আগে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় প্রধান দুই সন্দেহভাজন। কারওয়ান বাজারের স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশের গলির মুখে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিল তাদের এক সহযোগী। মোটরসাইকেলটি তার কাছে হস্তান্তর করে ওই দুজন গলির ভেতরের দিকে অন্ধকার স্থানে গিয়ে ওত পেতে থাকে। হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি ফার্মগেটের দিকে চলে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে গতকাল শুক্রবার এসব তথ্য জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।
এদিকে হত্যার পর দুই দিনেও জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এমনকি জানা যায়নি তাদের পরিচয়। তবে পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্তত চারজনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের দুজনকে গুলি করার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। একজন ওই গলিতে এমনভাবে হাঁটাহাটি করছিল যে, প্রথমে তাকে সন্দেহই করা হয়নি। পরে আরেক স্থানের ফুটেজে দেখা যায়, জড়িত অপর তিনজনের সঙ্গে সে শলাপরামর্শ করছে। শনাক্ত হওয়া অপরজন গলির মুখে দাঁড়িয়েছিল।
মুছাব্বির হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও থানার সামনে বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা। এ সময় তারা বিচার চেয়ে নানারকম স্লোগান দেন। পরে তারা কারওয়ান বাজারে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শেষ করেন।
তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈন্যু মারমা সমকালকে বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি নিয়ে কিছু মানুষ থানার সামনে এসেছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। পরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানিয়ে চলে যান।
ওসি জানান, গতকাল সিসি ক্যামেরার নতুন কিছু ফুটেজ পাওয়া গেছে। তাতে হত্যায় সন্দেহভাজন চারজনের অনেকটা স্পষ্ট ছবি পাওয়া গেছে। এগুলোর মাধ্যমে তাদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শনাক্ত সন্দেহভাজনদের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি। নিশ্চিত হওয়া যায়নি হত্যার কারণ। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বসহ সম্ভাব্য সব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত চলছে।
এর আগে গতকাল জুমার নামাজের পর মুছাব্বির হত্যার ঘটনাস্থল কারওয়ান বাজারের স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশের গলি থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা কারওয়ান বাজার মোড় হয়ে তেজগাঁও থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। সেখানে তারা প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান করেন। এ সময় মুছাব্বির হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। পরে তারা মিছিল নিয়ে আবারও কারওয়ান বাজারের দিকে ফিরে যান।
বিক্ষোভকারীরা জানান, তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে এবং শিগগিরই জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে পুলিশ দাবি করেছে। তবে দ্রুততম সময়ে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার না করতে পারলে আবারও আন্দোলনে নামবেন তারা।
তদন্ত সূত্র জানায়, মুছাব্বিরকে গুলি করার আগে রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেল আরোহী শুটার ও তার সহযোগী স্টার হোটেলের পাশের গলিতে যায়। গুলি ছোড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের পালিয়ে যেতে দেখা যায়। এখন পর্যন্ত স্পটে থাকা চারজন শনাক্ত হলেও এ ঘটনার সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে আরও কয়েকজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া এবং এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। সেখানে অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, হত্যার হুমকিতে ছিলেন তাঁর স্বামী। বিভিন্ন সময় মুছাব্বির বলেছিলেন, তাঁর অনেক শত্রু হয়ে গেছে, যে কোনো সময় তাঁকে খুন করা হতে পারে। যদিও কারা সেই শত্রু, তা তিনি বলেননি।
গত বুধবার রাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বির। ওই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কারওয়ান বাজার ভ্যানচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
- বিষয় :
- হত্যা
- অপরাধ চক্র
- অপরাধ
- গুলি করে হত্যা
