ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঢাকায় ছুটির দিনেও বায়ু ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’

ঢাকায় ছুটির দিনেও বায়ু ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকায় গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনেও বায়ুদূষণের মাত্রা ছিল ভয়াবহ। বিশ্বের ১২৫টি নগরীর মধ্যে রাজধানীর অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। গড় বায়ু মান সূচক (একিউআই) ছিল ২৬৭, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’। নগরীর দুটি স্থানে দূষণের মাত্রা উঠে যায় ‘দুর্যোগপূর্ণ’ স্তরে, যা সর্বোচ্চ ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ারের লাইভ সূচক অনুযায়ী, নিকুঞ্জের এএসএল সিস্টেমস লিমিটেড এলাকায় একিউআই ছিল ৪১৮, যা সরাসরি ‘দুর্যোগপূর্ণ’। ঢাকার আরও কয়েকটি এলাকায় বায়ুর মান ছিল ব্যাপকভাবে খারাপ– ধানমন্ডিতে একিউআই ২৯৫, পল্লবীতে ২৮২, মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিংয়ে ২৭৪, বে’জ এইজ ওয়াটারে ২৭১, বেচারাম দেউড়িতে ২৭০, গোরানে ২৪৯, গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ২৩৮ এবং পীরেরবাগ রেললাইন এলাকায় ২০৪।

ছুটির দিনে সাধারণত যানবাহন কম চলে এবং অনেক কলকারখানাও বন্ধ থাকে। তবু ঢাকার বায়ু মানে কোনো স্বস্তি আসেনি। বরং গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাজধানী নিয়মিতভাবে বিশ্বের শীর্ষ দূষিত নগরীগুলোর তালিকায় থাকছে। গত ডিসেম্বরজুড়ে এবং চলতি জানুয়ারিতেও প্রায় প্রতিদিনই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

গতকাল বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরী ছিল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সারায়েভো; সেখানে একিউআই ছিল ৪৩৩। ঢাকার পরিস্থিতিও সেই উচ্চ ঝুঁকির কাছাকাছি অবস্থান করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একিউআই ২০০ ছাড়ালে তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়, আর ৩০০ পেরোলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’। এ স্তরে বায়ু গ্রহণ হৃদরোগী, শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তি, শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ঢাকার বাইরে অনেক এলাকায়ও সাম্প্রতিক সময়ে দূষণের মাত্রা বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর বড় অংশই ঢাকাকেন্দ্রিক। বাস্তবে এসব কার্যক্রমের দৃশ্যমান ফল পাওয়া যাচ্ছে না, দূষণের মাত্রা কমার বদলে বরং বাড়ছেই।

আইকিউ এয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, এ অবস্থায় বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। খোলা জায়গায় ব্যায়াম এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ঘরের জানালা যতটা সম্ভব বন্ধ রাখার এবং ঘরের ভেতরে পরিষ্কার বাতাস বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর বায়ু পরিস্থিতি নিয়ে পরিবেশবিদরা বলছেন, কার্যকর নজরদারি, নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, ইটভাটা ও শিল্পকারখানার ধোঁয়া নির্গমন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং যানবাহনের ধোঁয়া কমাতে সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে ঢাকার বায়ুদূষণ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

আরও পড়ুন

×