ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হকারদের দখলে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা

হকারদের দখলে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা
×

রেলগেট, স্টেশনের ফুটপাত, পার্কিং এলাকায় হকাররা দোকান বসিয়েছেন সমকাল

শহিদুল আলম

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা এখন হকারদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। স্টেশনের ফুটপাত, পার্কিং এলাকা এমনকি আশকোনা লেভেল ক্রসিংয়ের মূল সড়ক ও রেললাইনের ওপর হকাররা দোকান বসিয়েছেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, যাত্রী ও পথচারীরা। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের পাশেই অবস্থিত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই স্টেশন থেকে ট্রেনে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন যাত্রীরা। 
সরেজমিন দেখা গেছে, রেলওয়ে স্টেশনের রেল ক্রসিং এলাকা দখল করে দেশি-বিদেশি ফলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন হকাররা। স্টেশনের প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে ফুটপাত ও অধিকাংশ খালি জায়গা এখন হকারদের দখলে। সেখানে জুতা, কাপড়, লুঙ্গি, টি-শার্ট ও শরবতের শত শত দোকান বসানো হয়েছে।   

ভুক্তভোগীরা জানান, স্টেশনের ফুট ওভারব্রিজের লিফট নষ্ট থাকায় সিঁড়ি বেয়ে ফুট ওভারব্রিজে উঠতে হয় পথচারীদের। কিন্তু হকারদের দৌরাত্ম্যে হাঁটার জায়গা না থাকায় তারা মূল সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে হজ ক্যাম্প এলাকায় আন্ডারপাস নির্মাণকাজের জন্য ফুটপাত ভেঙে ফেলায় হকাররা এখন সরাসরি সড়কের ওপর দোকান নিয়ে বসেছেন। এতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যাত্রী এবং দক্ষিণখান-উত্তরখানমুখী মানুষদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। 

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসন ও রেলওয়ের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের মদদেই এই দখলদারিত্ব চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হকার জানান, প্রতিদিন দোকানভেদে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। রেলওয়ে স্টেশনের কর্মকর্তাদের মনোনীত লাইনম্যানরা এই টাকা তোলেন। পরবর্তী সময় পদ অনুযায়ী এই টাকা ভাগাভাগি হয়। টাকা দিলেই কেবল দোকান বসানোর অনুমতি মেলে। 

পথচারী আমেনা বেগম ও বছির আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফুটপাত ও রাস্তা হকারদের দখলে থাকায় আমাদের হাঁটার জায়গা নেই। মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ করা হলেও কয়েকদিন পর আবার সব দখল হয়ে যায়। প্রশাসনের সদিচ্ছা না থাকলে এই জনদুর্ভোগ শেষ হবে না। 

আরেক পথচারী কামাল মিয়া বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষ চাইলে এখানে হকার বসার সাহস পাওয়ার কথা না। অথচ টাকার বিনিময়ে তারা পুরো এলাকা দখল করে নিয়েছে। 
হকারদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিমানবন্দর রেলওয়ের আরএনবি নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তা (সিআই) সালাউদ্দিন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘আশকোনা রেল ক্রসিং অত্যন্ত জনবহুল এলাকা। এখানে হকার বসার কোনো সুযোগ নেই। মাঝেমধ্যে ভাসমান হকাররা বসলে আমরা নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করি। আর্থিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।’ 
বিমানবন্দর স্টেশন মাস্টার শাহাদাত হোসেন জানান, স্টেশন এলাকার আইনশৃঙ্খলা এবং হকারমুক্ত রাখার মূল দায়িত্ব রেলওয়ের আরএনবি নিরাপত্তা শাখা ও জিআরপি পুলিশের। তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া আছে। তিনি দাবি করেন, আগের তুলনায় বর্তমানে হকারের সংখ্যা অনেক কমেছে এবং নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। 

আরও পড়ুন

×