ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

হাওরাঞ্চলে বন্যা ও জলাবদ্ধতার টেকসই সমাধান চায় পরিবেশ ও নাগরিক সংগঠনগুলো

হাওরাঞ্চলে বন্যা ও জলাবদ্ধতার টেকসই সমাধান চায় পরিবেশ ও নাগরিক সংগঠনগুলো
×

জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে হাওরাঞ্চলে চলমান বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ফসলহানি, দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ১৫:১০ | আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ | ১৫:১১

হাওর অঞ্চলে চলমান বন্যা ও জলাবদ্ধতা সমস্যার টেকসই সমাধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে পরিবেশ ও নাগরিক সংগঠনগুলো। তারা বলেছে, এই সংকট শুধু হাওরবাসীর নয়। এটি আমাদের সবার। হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। হাওরবাসীর পাশে দাঁড়াতে হবে। আজ যদি আমরা কার্যকর উদ্যোগ না নেই, তাহলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহতা আরও বাড়বে।

আজ রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে হাওরাঞ্চলে চলমান বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ফসলহানি, দুর্যোগ পরিস্থিতি এবং হাওরবাসীর দাবিবিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা এবং নাগরিক উদ্যোগ যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা। সূচনা বক্তব্য দেন বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, লেখক-গবেষক গওহার নঈম ওয়ারার, ধান গবেষক ড. হালিম দাদ খান, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ডা. ওমর খৈয়াম, হাফিজুল ইসলাম, ফরিদ হাসান আহমেদ প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের আমিনুল রসুল। 

সংবাদ সম্মেলনে হাওরাঞ্চলের মানুষকে রক্ষায় ১৫ দফা দাবি জানানো হয়। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে- অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত কৃষকদের জন্য বছরব্যাপী আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা; হাওরে নদী, খাল ও বিল পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে খনন করে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা; হাওরের মাঝ দিয়ে অপরিকল্পিত সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করা; ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে; হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ; ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সহল শর্তে সুদমুক্ত কর্মসংস্থান ঋণ প্রদান; পরবর্তী ফসল না ওঠা পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৩০ কেজি চাল ও এক হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য প্রদান; জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড সহ বিভিন্ন জলবায়ু তহবিল থেকে হাওরবিষয়ক গবেষণা ও পরিবেশ সহায়ক প্রকল্প গ্রহণ করে হাওরের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বরাদ্দ নিশ্চিত করা প্রভৃতি।

আরও পড়ুন

×