সড়কে শৃঙ্খলা
এআই দিয়ে ট্রাফিক মনিটরিং, এক সপ্তাহে তিন শতাধিক মামলা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ০৮:৪৬ | আপডেট: ১২ মে ২০২৬ | ০৯:৩০
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পর এক সপ্তাহে তিন শতাধিক মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় মামলার ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে। তখন সার্জেন্ট বা ট্রাফিক পরিদর্শকদের ম্যানুয়াল মামলা খুব একটা করতে হবে না।
গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর ক্রসিংয়ে সৌরশক্তিচালিত ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার জানান, এআই প্রযুক্তির ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত করা হচ্ছে। জেব্রা ক্রসিং অতিক্রম, উল্টোপথে চলাচল কিংবা মোটরযান আইন ভঙ্গের ঘটনা ঘটলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল মামলা হচ্ছে। সফটওয়্যার কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজ তৈরি করছে, যা বিআরটিএর ডেটাবেজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গাড়ির মালিকের তথ্য শনাক্ত করছে। পরে সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
কমিশনার বলেন, যার বিরুদ্ধে মামলা হবে, তিনি ভিডিওতে নিজেই অপরাধ দেখতে পারবেন। তবে মূলত শাস্তির জন্য নয়, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মোবাইল অ্যাপ বা এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানোর ব্যবস্থাও চালু হবে। তখন চালকরা অনলাইনে জরিমানা পরিশোধ করতে পারবেন।
তিনি জানান, এরই মধ্যে রাজধানীর ৩০টি পয়েন্টে এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হবে। বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন জাহাঙ্গীর গেট থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত সাতটি ক্রসিংয়ে সিগন্যাল লাইট বসিয়েছে। গুলশান-১ ও গুলশান-২ নম্বর এলাকাতেও সিগন্যাল লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া হাইকোর্ট থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত ছয়টি পয়েন্টে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সিগন্যাল লাইট কয়েক দিনের মধ্যে চালু হবে। ডিএমপি ১৫টি পয়েন্টে সিগন্যাল লাইট বসিয়েছে। এই প্রযুক্তি পুরোপুরি চালু হলে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি মামলা হবে। ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা এক দিনে দূর হবে না। ধীরে ধীরে সব সেক্টরে হস্তক্ষেপ করে শৃঙ্খলা আনা হবে।
কমিশনার জানান, ২০২২ সাল থেকে জরিমানা পরিশোধ না হওয়া প্রায় এক লাখ মামলা জমে ছিল। এর মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ৬৭ হাজার মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আরও ৩৮ হাজার মামলা প্রক্রিয়াধীন। সড়কে গতি বাড়াতে এরই মধ্যে রাজধানীর ৭০টির মতো স্থানে কোথাও ইউটার্ন, কোথাও রাইট টার্ন বন্ধ করা হয়েছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকায় যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটারের নিচে। বর্তমানে তা ১০ কিলোমিটারের বেশি হয়েছে। কুড়িল বিশ্বরোড এলাকার যানজট কমাতে তিনশ ফুট সড়ক থেকে ইউনাইটেড গ্রুপ-স্বদেশ ভ্যালি-আফতাবনগর পর্যন্ত নতুন একটি সড়ক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।
