গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা
বাংলাদেশ বহুমাত্রিক জলবায়ু সংকটে, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি
গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা। ছবি- সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ১৬:২৯ | আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ | ১৬:৩১
বাংলাদেশ বর্তমানে বহুমাত্রিক জলবায়ু সংকটের মুখোমুখি। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশগত অবক্ষয় এবং জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা একযোগে জনস্বাস্থ্য, শ্রম উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।
সোমবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর জাস্ট ট্রানজিশন বাংলাদেশ’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক মূল্যায়নে দক্ষিণ এশিয়াকে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে চরম তাপমাত্রা ও জলবায়ুজনিত জীবিকা সংকটের সর্বোচ্চ চাপ বহনকারী দেশগুলোর একটি।
তারা বাংলাদেশ শ্রম আইনে জলবায়ু-সংবেদনশীল পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পর বাধ্যতামূলক বিশ্রাম, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা এবং চরম তাপপ্রবাহে বহিরাঙ্গনে কাজ বন্ধ রাখার বিধান প্রণয়নের আহ্বান জানান।
এ ছাড়া জলাধার ও উন্মুক্ত সবুজ এলাকা পুনরুদ্ধার, কুল রুফ ও গ্রিন রুফ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, নগর বনায়ন জোরদার, অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের জন্য তাপপ্রবাহভিত্তিক বীমা ও জরুরি সহায়তা চালু এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশনের সভাপতি সৈয়দ সুলতান উদ্দিন, প্রধান সমন্বয়ক এন আহম্মদ, ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর জাস্ট ট্রানজিশন বাংলাদেশের সমন্বয়ক নুরুল আমিন, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) কুতুবুদ্দিন আহমেদ, ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (আইবিসি) আবুল কালাম আজাদ এবং জাস্ট ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সোহানুর রহমান।
বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে বাংলাদেশ ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। ২০২৬ সালেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে অবস্থান করছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করেছে, ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্ট সময়কালে এল নিনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ। যা দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়াবে।
তারা আরও বলেন, জলবায়ু সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি অনিরাপত্তা। দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রাথমিক জ্বালানি চাহিদা আমদানিনির্ভর। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে শিল্প ও উৎপাদন খাতে।
চরম তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে কারখানার শ্রমিকরা অসহনীয় পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, পানিশূন্যতা, পেশিতে টান, বমিভাব ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো তাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।
- বিষয় :
- জলবায়ু
- গোলটেবিল আলোচনা
