ফেরদৌসী রহমানের আত্মজীবনীর মোড়ক উন্মোচন ঘিরে উৎসব
সংগীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমানের আত্মজীবনীর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৮ | আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ১৩:২৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলা গানের কিংবদন্তি শিল্পী ফেরদৌসী রহমান ঘিরে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে ছিল উৎসবের আবহ। প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনী ‘লোকে বলে প্রেম, আমি বলি জ্বালা’ বইটির মোড়ক উন্মোচন আয়োজনে বারবার ফিরে এসেছে শিল্পীর দীর্ঘ সংগীতজীবনের নানা অধ্যায়।
মিলনায়তনে ফেরদৌসী রহমান প্রবেশ করতেই উপস্থিত দর্শকরা দাঁড়িয়ে করতালি দেন। বেঙ্গল গ্রুপ লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী ফুল দিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। আবুল খায়ের তাঁর পরিবারের সঙ্গে ফেরদৌসী রহমানের দীর্ঘদিনের আন্তরিক সম্পর্কের স্মৃতি তুলে ধরেন।
বইটি প্রকাশের পেছনের দীর্ঘ আট বছরের যাত্রার কথা তুলে ধরে গীতিকবি কবির বকুল বলেন, ‘২০১৮ সালে প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রথমার প্রকাশক মতিউর রহমানের সঙ্গে ফেরদৌসী রহমানের বাসায় আলাপ থেকেই আত্মজীবনী প্রকাশের উদ্যোগ শুরু হয়।
প্রবীণ সংগীতশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী জানান, ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের পরিচয়। এরপর ১৯৬৫ সালে ‘ডাকবাবু’ চলচ্চিত্রে তাদের প্রথম দ্বৈত সংগীত রেকর্ড হয়।
কণ্ঠশিল্পী কনক চাঁপা বলেন, ফেরদৌসী রহমান আমাদের গানের যমুনা নদী, আমাদের হিমালয়।
আত্মজীবনী নিয়ে ফেরদৌসী রহমান বিনয়ী কণ্ঠে জানান, নিজের জীবনে বিশেষ কিছু করেছেন বলে তাঁর মনে হয় না। তবে বইটিতে উঠে এসেছে পুরান ঢাকার পরিবেশ, হারিয়ে যাওয়া সামাজিক আচার, মানুষের জীবনযাপন, খাবারের সংস্কৃতি, সংগীতচর্চার নানা অভিজ্ঞতা এবং তাঁর দীর্ঘ পথচলার অজানা অনেক গল্প। তবে শুরুতে বাংলা ভাষায় আত্মজীবনী লেখার আত্মবিশ্বাস ছিল না বলেও জানান তিনি। নিজের গাওয়া জনপ্রিয় গানের চরণ থেকে বইটির নামকরণ নিয়ে ফেরদৌসী রহমান জানান, তাঁর কাছে গানই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেম। আর সেই প্রেমকে বাঁচিয়ে রাখতে যে নিরন্তর সাধনা, পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, সেটিই তাঁর ভাষায় ‘জ্বালা’।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রথম আলো সম্পাদক ও প্রথমার প্রকাশক মতিউর রহমান বলেন, ফেরদৌসী রহমানের আত্মজীবনীতে যেমন শিল্পীর জীবন উঠে এসেছে, তেমনি ধরা পড়েছে সংগীত, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পুরান ঢাকার সামাজিক ইতিহাসের দলিল।
- বিষয় :
- উৎসব পালন