ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

স্মরণসভায় বক্তারা

সাংবাদিক শাহেদ কামাল জ্ঞান ও মানবিকতার অনন্য প্রতীক

সাংবাদিক শাহেদ কামাল জ্ঞান  ও মানবিকতার অনন্য প্রতীক
×

সাংবাদিক শাহেদ কামালের স্মরণসভায় বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবি সুফিয়া কামালের বাসভবন সাঁঝের মায়ায় সমকাল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক ও সাংবাদিক শাহেদ কামাল ছিলেন জ্ঞান, রুচি ও মানবিকতার অনন্য প্রতীক। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁকে স্মরণ করে সহকর্মী, শিক্ষার্থী, স্বজনসহ গুণগ্রাহীরা এসব কথা বলেছেন। 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবি সুফিয়া কামালের বাসভবন ‘সাঁঝের মায়া’য় স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। সভা সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতুলপ্রসাদের গান পরিবেশন করেন জান্নাতে ফেরদৌসী। সূচনা বক্তব্য দেন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী সাইদুর রহমান। পরে শাহেদ কামালের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন তাশফিকী হাবীব।

স্মরণসভায় বক্তব্য দেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম রহমান, সাবেক এমপি আরমা দত্ত, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, কবি সুফিয়া কামালের ছোট মেয়ে চিত্রশিল্পী সাঈদা কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুব্রত শংকর ধর, সাংবাদিক মুন্নী সাহা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে বক্তব্য দেন শাহেদ কামালের বোন মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল প্রমুখ।
 অধ্যাপক গোলাম রহমান বলেন, ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের পরিচিতি সভায় প্রথম শাহেদ কামালের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর দীর্ঘ সময় একসঙ্গে আড্ডা, ভ্রমণ ও শিক্ষাসফরের স্মৃতি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘শাহেদ কামালের জ্ঞানের পরিধি মাপার মতো নয়। তাঁর রুচি ছিল অসাধারণ। শিক্ষাসফরে তিনি সবসময় আমাদের সঙ্গে থাকতেন। অসুস্থ হওয়ার পরও মাঝেমধ্যে ফোন করে খোঁজ নিতেন।’
 

অধ্যাপক সুব্রত শংকর ধর বলেন, ‘শাহেদ কামাল ভাষার শুদ্ধ ব্যবহারের বিষয়ে ছিলেন অত্যন্ত কঠোর। তিনি বলতেন, বানান ভুল করা যাবে না, বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে লেখা যাবে না।’ 
শাহেদ কামালের ছোট বোন চিত্রশিল্পী সাঈদা কামাল বলেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, তবে খেয়ালী স্বভাবের। কখনও নাচ শিখতে, কখনও ছবি আঁকতে আগ্রহী হতেন। সাংবাদিকতার চাকরির কারণে একসময় ঢাকার বাইরে চলে যান শাহেদ কামাল। দীর্ঘ বিরতির পর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ভাইবোনদের সঙ্গে তাঁর ছিল আন্তরিক সম্পর্ক। 

জুমে যুক্ত হয়ে সুলতানা কামাল বলেন, শাহেদ কামালের ব্যক্তিত্ব ছিল বহুমাত্রিক। তিনি স্বতন্ত্র রুচি ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে সবার কাছে আলাদা হয়ে উঠেছিলেন।
 সাবেক এমপি আরমা দত্ত বলেন, শাহেদ কামাল ছিলেন অসাধারণ মাতৃভক্ত। তিনি আধুনিক ও প্রগতিশীল চিন্তার মানুষ ছিলেন। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর চিন্তাধারা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। 
মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির বলেন, দীর্ঘদিনের পরিচয়ে তিনি শাহেদ কামালকে অত্যন্ত আন্তরিক ও স্নেহশীল মানুষ হিসেবে দেখেছেন।
সাংবাদিক মুন্নী সাহা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শাহেদ কামাল স্যারের প্রতিটি কথা পেন্সিল দিয়ে লিখে রাখতেন। শাহেদ কামালের অস্ত্রোপচারের আগে দেখা করতে গিয়েছিলেন। এরপর প্রতি সপ্তাহে ফোনে কথা হতো।

শাহেদ কামাল গত ৪ জুলাই সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। কবি সুফিয়া কামালের জ্যেষ্ঠ পুত্র শাহেদ কামাল ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা শুরু করেন। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
 

আরও পড়ুন

×