ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টিবি হাসপাতালকে জাতীয় যক্ষ্মা ইনস্টিটিউট করা হবে: ববি হাজ্জাজ

টিবি হাসপাতালকে জাতীয় যক্ষ্মা ইনস্টিটিউট করা হবে: ববি হাজ্জাজ
×

শ্যামলীতে টিবি হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি- সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:২৯ | আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৩০

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালকে শিগগিরই জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, এ রূপান্তরের ফলে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রোগ নির্ণয়, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়বে।

সোমবার ঢাকার শ্যামলীতে টিবি হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালটিকে একটি আধুনিক, সমন্বিত ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোগীদের মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

দ্রুত পূরণ হবে শূন্যপদ

হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেবার মানোন্নয়ন ও হাসপাতালের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে জনবল সংকট দূর করা জরুরি।

এ জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

৫০০ শয্যার নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ

হাসপাতালের সেবার পরিধি ও সক্ষমতা বাড়াতে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান ববি হাজ্জাজ।

এ ছাড়া হাসপাতালের সামনের ফুটপাত দখলমুক্ত করে রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে আলাপ

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন তিনি। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন।

পরে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রতিমন্ত্রী। চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করতে তাঁদের দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা, ওষুধ সরবরাহ এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কেও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নেন তিনি।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা প্রতিটি রোগীর প্রতি মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। রোগীরা যেন কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও উপপরিচালক ডা. আয়শা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিষয়ক সাংবাদিক, হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×